কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া শুরু

0
172

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার মানুষ যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে টংঘর বেঁধে
আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি উপচে জলাবদ্ধতা বেড়ে নতুন করে
মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। টানা বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে কেশবপুরের হরিহর নদের
বিপদ সীমার দুই ফুট উপরে উঠে এসেছে। পানি বাড়ার কারণে জলাবদ্ধ পরিবারের সংখ্যাও
বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকার নদ-নদী পলিতে ভরাট হওয়ার পাশপাশি অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের
কারণে সুষ্ঠুভাবে পানি প্রবাহ হতে না পেরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সরেজমিন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকুল এলাকায় দেখা যায়, সরদারপাড়ার
মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি।
একইভাবে এক নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সাহাপাড়া খ্রিস্টান মিশনের পাশের সড়কটিতেও
উঠে এসেছে জলাবদ্ধতার পানি। যশোর-চুকনগর সড়কের মধ্যকুল আমতলা এলাকায় জলাবদ্ধ
মানুষ টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিচ্ছে। টংঘরের পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যকুল এলাকার হামিদা
খাতুন (৪০) বলেন, এক মাস ধরে এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত বৃহ¯পতি ও শুক্রবারের
টানা বৃষ্টি হওয়ায় পানি বেড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। যে কারণে যশোর-চুকনগর
সড়কের পাশে টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিতে হয়েছে। একইভাবে ওই এলাকার ভ্যানচালক
জিন্নাত আলী বলেন, ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় এসে টংঘর
বাধছি। অনেকেই এভাবেই টংঘর বেঁধে আশ্রয় নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এলাকার সাবেক
পৌর কাউন্সিলর আয়ুব খান বলেন, জলাবদ্ধ মানুষ সাহায্য চান না-তারা জলাবদ্ধতার স্থায়ী
সমাধান চান। বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকাটি জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মৎস্য ও কৃষিতে
ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, পলিতে নদ-নদী
ভরাটের পাশিপাশি অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে
কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়
মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মানুষ
যাতায়াত করছেন। দ্রুত ভবদহ অঞ্চলের হরি নদী অববাহিকার যে কোন একটি বিলে
টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালুসহ নদ-নদী খনন না করা হলে জলাবদ্ধতা
দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়বে।
কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন বলেন, তার ইউনিয়নে ১১টি
গ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধ পরিবারের সংখ্যা বেড়ে এখন
৪০০ তে পৌঁছেছে। আলতাপোল এলাকার ১১টি পরিবার সড়কের পাশের একটি উঁচু ঘরে
এসে আশ্রয় নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here