চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছা পৌর পশুহাট প্রায়
দুই মাস বন্ধ থাকার পর শুক্রবার পুনরায় শুরু হয়েছে। শুরুর দিনেই ক্রেতা
বিক্রেতা আর পশুর আগমনে সরব হয়ে উঠে হাট। দীর্ঘদিন পরে হাট চালু
হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীসহ হাটের সাথে সম্পৃক্ত সকলেই।
চৌগাছার একমাত্র পৌরপশুহাট মামলার জটিলতার কারনে প্রায় দুই মাস বন্ধ
ছিলো। আদালতের আদেশে পৌর কর্তৃপক্ষ পুনরায় হাট রিটেন্ডার দেন।
বৃহস্পতিবার সেই টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলা বিএনপির নেতা ও
পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল হাট পাই। হাট পাওয়ার পর
তারা শুক্রবার থেকেই হাট বসাবেন এমন একটি অনুমতি নেন পৌর
কর্তৃপক্ষের নিকট হতে। অনুমতি পেয়ে সন্ধ্যায় হাট মালিক প্রচার মাইক
বের করেন। শুক্রবার সূর্যের আলো ফুটার আগে থেকেই হাটে আসতে থাকে
পশু। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পশু আর ক্রেতা বিক্রেতায় সরব হয়ে উঠে হাটের
গোটা এলাকা। নতুন যারা হাটে এসেছেন তারা বুঝতেই পারেনি হাটটি
দুই মাস বন্ধ ছিলো।
কথা হয় হাটের সাথে সম্পৃক্ত গোলাম মোস্তফার সাথে। তিনি বলেন, এই
হাট চৌগাছাবাসির জন্য খুবই দরকার। হাটের সাথে শতশত মানুষ সম্পৃক্ত
হাট বন্ধ থাকলে তারা দারুন কষ্টে দিন পার করেন। চা বিক্রেতা আসলাম উদ্দিন,
বেল্লার হোসেন বলেন, আমি বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়েছি আজ শুক্রবার
হাট বসবে। দুই মাস দোকান খুলেনি, ভোরে এসে দোকান পরিস্কার করে
মালামাল তুলেছি, আলহামদুলিল্লাহ সেই আগের মতই বেচাকেনা শুরু
হয়েছে।
বারীনগর থেকে গরু বিক্রি করতে আসা জয়নাল হোসেন বলেন, সকালে গরু
নিয়ে এসেছি দুপুরের আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এই হাটে আমি
নিয়মিত আসি হাটটি বন্ধ থাকায় বেশ সমস্যায় দিন গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজগার আলী বলেন, যিনি হাট পেয়েছেন আমাদের নেতা
লাল ও গোবিন্দ কুমার ওরা যেন হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা। বৃহস্পতিবার সন্ধায়
খবর হয়েছে হাট বসবে আর শুক্রবার প্রথম দিনেই হাট পশুতে সরব অন্য কোন
মালিক হলে এটি সম্ভব হতো না। এই হাট নিয়ে যেন আর কোন ষড়গযন্ত্র
না হয় সে জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
এ দিকে দুই মাস বন্ধ থাকার পর শুক্রবার শুরু হওয়া হাটে ঢল নামে মানুষের। তবে
তাৎক্ষনিক হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা খাবারের দোকান প্রস্তত না হওয়ায়
অনেকে বিড়াম্বনায় পড়েন।
হাটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক বিএনপি নেতা গোবিন্দ কুমার রাহা বলেন, প্রায়
দেড় দশক পর চৌগাছায় পশুহাট আমি এবং চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল
প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। রমরমা হাট ধ্বংশে পাশ^বর্তী থানার লোকজন অনেক
চেষ্টা করেও পারিনি। একটি মামলার কারনে দুই মাস পর হাট চালু করেছি।
হাট চালুতে খুশি সকলে।
হাটের ইজারাদার আতাউর রহামন লাল বলেন, চৌগাছায় একটি মাত্র পশুহাট
হওয়ার কারনে এই হাটের কদর বেশি। পূর্বেও আমি হাট পরিচালনা করেছি
এবারও নতুন ভাবে হাট পেয়েছি আমি আশাবাদি এই হাটে ক্রেতা
বিক্রেতা আগের মতই সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পাবেন।















