চাহিদার ৪গুন মাছ উৎপাদন হয় যশোরের মনিরামপুরে !

0
321

মনিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধিঃ চাহিদার ৪গুন মাছ উৎপাদন হয় যশোরের মনিরামপুরে । দেশের অন্যতম
বৃহত্তম উপজেলা যশোরের মনিরামপুর।এখানকার মানুষের প্রধান
জীবিকা কৃষি নির্ভর হলেও ভবদহ জলাবদ্ধতা ও কপোতাক্ষ অববাহিকায়
অধ্যুষিত এলাকায় ধীওে ধীরে কৃষির সাথে সাথে মানুষ মাছ চাষে
আগ্রহী হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই জনপদ মাছ চাষের জন্য সম্ভাবনাময়
অঞ্চল হিসেবে দেশ ও বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশের মাছের
চাহিদা পূরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্থানীয় চাহিদা
পূরণের পরও এখানকার মাছ এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা
হচ্ছে।
মনিরামপুরের বিস্তীর্ণ জলাশয় এবং উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তির
সমন্বয়ে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এখানকার কৃষকরা গতানুগতিক
পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন বায়োফ্লক এবং রেসওয়ে
সিস্টেম, ব্যবহার করছেন। একইসঙ্গে, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ
কার্যক্রমও এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলায় মৎস্য উৎপাদনের
জন্য ১১৬৪৩ টি পুকুর ,২৬৩৯টি চিংড়ি ঘের , ২৫৮৫ টি গালদা, ৫৪ টি
বাগদা ও ২২৫০টি ছোট বড় বিভিন্ন জাতের ঘের রয়েছে।
এছাড়া ১৩টি বিল, ২৮৫টি প্লাবনভূমি।১টি হ্যাচারি, ৭২ টি
নার্সারি রয়েছে। মাছ উৎপাদনের জন্য প্রায় ২৫ হাজার মৎস্য চাষী ও ৫০
হাজার মৎস্যজীবি পরিবার এবং অন্ততঃ ৫হাজার তিনশ জন নিবন্ধনকৃত
জেলে রয়েছে। অত্র উপজেলায় বাৎসরিক মাছের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার
মেট্রিক টন।বাৎসরিক মাছের উৎপাদন প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন
যা বাৎসরিক চাহিদা তুলনায় ৪গুন।
মনিরামপুরের বিশিষ্ট মাছ চাষী আব্দুল হলিম বলেন,এখানকার বিস্তীর্ণ
জলাশয় এবং উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই সাফল্য অর্জিত
হয়েছে। এখানকার কৃষকরা গতানুগতিক পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক
প্রযুক্তি, যেমন বায়োফ্লক এবং রেসওয়ে সিস্টেম, ব্যবহার করছেন।
একইসঙ্গে, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও এই সাফল্যের পেছনে
বড় ভূমিকা রেখেছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা বলেন, “মনিরামপুরের
মাটি,পানি ও জলবায়ু মাছ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার
চাষিরা খুবই পরিশ্রমী এবং তারা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী।
আমরা তাদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি, যা উৎপাদন
বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।”
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
মাছের এই অতিরিক্ত উৎপাদন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
ফেলছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের আয়ও
উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এলাকার মাছের আড়তগুলোতে প্রতিদিন শত
শত টন মাছ বেচাকেনা হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে।
মনিরামপুর মেসার্স কাশেম ফিস ব্যবসায়ী শামীম হোসেন
বলেন,এখানকার মাছের মান ভালো হওয়ায় সারা দেশসহ বিদেশেও এর
ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
মনিরামপুর মহিলা কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক নিহার রঞ্জন
হালদার বলেন, মৎস্য বিভাগ এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন
পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চাষিদের উন্নত মানের পোনা সরবরাহ, রোগ
প্রতিরোধে সহায়তা এবং বাজারজাতকরণে নতুন কৌশল অবলম্বন করা
হচ্ছে। একইসঙ্গে, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের ব্যাপারেও সরকার
গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে মাছের মূল্য সংযোজন করা যায় এবং বিদেশে
রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।
মনিরামপুর সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল
ইসলাম বলেন, মনিরামপুরের এই সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি
মডেল হতে পারে। যদি সারা দেশে এভাবে পরিকল্পিত মৎস্য চাষ করা যায়,
তাহলে দেশ অদূর ভবিষ্যতে মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও একটি বড় উৎস হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here