আ,লীগের ১৫ বছর: শার্শায় ৭৯ টি ধর্ষন মামলা, ধামা চাপা দিতে ৪ জনকে হত্যা

0
218

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারহীনতার কারনে গত ১৫ বছরে যশোরের শার্শায় উপজেলাতে ৭৯ জন নারী,শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছে। এসময় ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষন ও বলৎকারের শিকার ৪ জনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। ৭৯ টি ধর্ষন মামলায় অন্তর্ত আসামী হয়েছেন শতাধিক। তবে সাক্ষীর অভাব আর দূর্বল তদন্ত রিপোর্টে প্রায় সব আসামী জামিনে খালাস পেয়েছেন। এতে বিচার ব্যবস্থার দূর্বলতাকে দায়ী করে নতুন করে ন্যায় বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে পুলিশ বলছে নারী নির্যাতনের সব রোধে তারা সতর্ক রয়েছেন। আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারণেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মত ঘটনা।
পুলিশ তথ্য মতে,২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শার্শা উপজেলায় ৭৯ টি ধর্ষন মামলার মধ্যে,শার্শা উপজেলাধীন শার্শা থানায় ৪৮ টি ও এ উপজেলার অন্তগত বেনাপোল পোর্ট থানায় ৩১ টি মামলা দায়ের হয়।
ধর্ষনের পর হত্যাকান্ডের এসব ঘটনার মধ্যে আলোচিত ছিল, ২০১০ সালে বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের চৌকিদার নবিচ্ছদির মেয়ে কাজল রেখা ধর্ষনের পর হত্যা। অভিযোগ ওঠে সম্পতির বিরোধ নিয়ে রেশারেশিতে প্রতিবেশি শওকত মেম্বারের ছেলে অহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগী মিয়াদ আলী,নেদা কাজল রেখাকে গণধর্ষন করে। পরে ঘটনা ধামা চাপা দিতে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মরদেহ মাঠে ফেলে দেয়। ন্যায় বিচার পেতে কাজল রেখার পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে কয়েকদিন বাদেই ধর্ষনকারীদের জীবননাশের হুমকিতে অসহায় বাবাকে মামলা তুলে নিতে হয়। মেয়ে হারানোর শোকে ঘটনার পর থেকে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বাবা মা। এখন বিচার চান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে।
কাজল রেখার বাবা নবিচ্ছদি জানান, মেয়ে ধর্ষন ও হত্যার বিচার পায়নি। মামলা করলেও প্রভাবশালীদের চাপে মামলা তুলে নিতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে মেয়ে হত্যা ও ধর্ষনের বিচার চাই।
কাজল রেখার প্রতিবেশিরা জানান, ওহিদুল ও তার সহযোগীরা ছিল দস্যু প্রকৃতির। প্রভাবশালীদের হয়ে অসহায় মানুষদের সম্পদ দখল করে দেওয়া তাদের কাজ ছিল। কেউ তাদের কাজে বাঁধা প্রদান করলে লুটপাট, ধর্ষনও হত্যার মত ঘটনা ঘটাতে পিছু হটতো না।
এছাড়া ২০১৪ সালের ২৭ মে উপজেলার বসতপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী সেলিনা খাতুনকে প্রতিবেশি জাকিরও তার চার বন্ধু গণ ধর্ষনের পর গলা কেটে হত্যা করে। পরে লাশ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেয়।এঘটনায় আসামীরা গ্রেফতার হলেও কয়েক মাসের মাথায় তারা জামিনে ফিরে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here