কাগজ সংবাদ : যশোরের ৬ টি সংসদীয় আসনের সীমানা
অপরিবর্তিত রেখে আগামী জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে শহরে সমাবেশ ও
গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকালে শহরের
জজ কোর্ট মসজিদ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ
অনুষ্টিত হয়। সমাবেশ শেষে গণমিছিল বের হয়।
গণমিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে
শহরের চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।মিছিল পূর্ব
সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতে
আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল সভাপতি বলেন
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আসন
পুনর্বিন্যাসের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এর মধ্য
দিয়ে তারা যশোরের চিরায়ত নির্বাচনি
সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সম্প্রীতিকে বিনষ্টের চক্রান্ত
করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই যশোরবাসী মেনে
নিতে পারে না।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন
যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা যে একতরফা তা এই
জেলার মানুষের মতামত গ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে তারা
প্রমাণ করেছে। এই পরিকল্পনা থেকে অবশ্যই দ্রুততার
সাথে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যশোর জেলা
জামাতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের
সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা জামাতের
সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু জাফর সিদ্দিক, সহকারী
সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস,রেজাউল
করিম,জেলা প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন
বিশ্বাস ,বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক যশোর ৫ সংসদীয়
আসনের জামাতে নির্বাচিত প্রার্থী
অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, শহর আমির
অধ্যাপক শামসুজ্জামান,শহর সেক্রেটারি ইমরান
হোসাইন প্রমুখ।
এদিকে সকালে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর যশোর জেলা
সিনিয়র নির্বাচন অফিসারের কাছে জাতীয় সংসদ
নির্বাচনী এলাকা যশোরের ৪ টি আসনের সীমানা
পুনঃনির্ধারণের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে স্মারকলিপি
প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর
জেলার পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে ৬
টি আসন যশোর-১ শার্শা উপজেলা, যশোর-২
ঝিকরগাছা উপজেলা ও চৌগাছা উপজেলা, যশোর-৩
সদর উপজেলা (বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বাদে), যশোর-৪
বাঘারপাড়া উপজেলা, অভয়নগর উপজেলা ও সদর উপজেলার
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন, যশোর-৫ মনিরামপুর উপজেলা
এবং যশোর-৬ কেশবপুর উপজেলা। যশোরের এই ৬ টি
আসনের সীমানা সুন্দরভাবে নির্ধারণ করা যা
দীর্ঘদিন ধরে বহাল আছে। এই সীমানার ব্যাপারে
মানুষের কোন আপত্তি নেই। ২০০৮ সালে জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের সময় অভয়নগর ও কেশবপুর এলাকা
নিয়ে সংসদীয় এলাকা ৯০ যশোর-৬ এবং বাঘারপাড়া ও
সদর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে ৮৮ যশোর-৪
সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। যশোর জেলার
সর্বস্তরের মানুষের আপত্তির কারণে ২০১৪ সালে
পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা বর্তমানে
বহাল আছে। আমরা জানতে পারলাম ১৯/০৫/২০২৫ ইং
তারিখ একটি নাম সর্বস্ব বাংলাদেশ মাইনরিটি
জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডল উদ্দেশ্য
প্রণোদিত হয়ে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী যশোর-
৬ আসনের এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য
আবেদন করেছে। তার আবেদনে অভয়নগর উপজেলা,
মনিরামপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন যথা- ঢাকুরিয়া,
হরিদাসকাটি, দূর্বাডাংগা, কুলটিয়া, নেহালপুর ও
মনোহরপুর এবং কেশবপুর উপজেলার ৩ টি ইউনিয়ন
যথা- সুফলাকাঠি, পাঁজিয়া ও গৌরিঘোনা নিয়ে
৯০ যশোর-৬ নির্বাচনী আসনের সীমানা
পুণঃগঠনের প্রস্তাব দিয়ে আবেদন করেছেন
নির্বাচন কমিশনে। তার প্রস্তাব অনুযায়ী যদি
সীমানা পুণঃনির্ধারণ করা হয় তাহলে সংসদীয়
নির্বাচনে যশোরের ৪টি আসনের এলাকা
পুণঃনির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়বে। ফলে উক্ত এলাকার
মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিবে।
সুকৃতি কুমার মন্ডল হিন্দু জনঅধ্যুষিত এলাকার
ইউনিয়ন গুলোকে নিয়ে কিভাবে একটি আসন করা
যায় এজন্য উদ্দেশ্য প্রণদিত হয়ে প্রস্তাবনা দিয়ে
নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। তার প্রস্তাবনা
অনুযায়ী যদি সীমানা পুণঃনির্ধারন করা হয় তাহলে
অত্র এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগে
থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জনাব সুকৃতি কুমার
মন্ডলের উদ্দেশ্য প্রণোদিত আবেদনের বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা তীব্র নিন্দা ও
প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
(বিএনপি) এর মনিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও
মনিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট
শহীদ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী মনিরামপুর উপজেলা শাখার আমীর
ও মনিরামপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ফজলুল হক এর প্রতিবাদ করে নির্বাচন
কমিশনে আবেদন করেছে। অতএব সুকৃতি কুমার
মন্ডলের প্রস্তাব গ্রহণ না করে যশোর এর ৬টি
আসনের সীমানা যেমন আছে তেমনটি রাখার
ব্যাপারে জোর দাবি জানাচ্ছি। এসময় উপস্থিত
ছিলেন জেলা জামায়াতে আমির অধ্যাপক গোলাম
রসুল,জেলা জামাতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর
সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম
কুদ্দুস,রেজাউল করিম,জেলা প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক
শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল
হক, শহর আমির অধ্যাপক শামসুজ্জামান,শহর
সেক্রেটারি ইমরান হোসাইন।















