চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ চৌগাছা ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ
মেলায় দিন যত যাচ্ছে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত মেলায় আগত দর্শনার্থীদের
উপস্থিতিতে সৃষ্টি হচ্ছে এক মিলন মেলা। এবছর আবহাওয়া ভাল ও মেলায়
আগত মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধির কারনে বেচাকেনাও হচ্ছে সন্তোষজনক
এমনটিই জানালেন ব্যবসায়ীরা। সম্পুর্ণ গ্রামীণ এই মেলা যেন
মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে বলছেন স্থানীয়সহ আগত ব্যবসায়ী ও
দর্শনার্থীরা। তবে মেলা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে অভিযোগ
আয়োজক কমিটির।
চৌগাছার হাজারাখানা গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় গত ৯ সেপ্টেম্বর
মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ মেলা। দেখতে দেখতে পাঁচ
দিন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু মেলায় আগতদের উপস্থিতি যেন কোন
ভাবেই থামছে না, বরং দিন যত যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে মেলায় আগত
দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। চৌগাছা উপজেলার প্রতিটি গ্রাম থেকে
মানুষ যাচ্ছেন মেলাতে শুধু চৌগাছা না দেশের বিভিন্ন জেলা
উপজেলা হতে মানুষ ছুটে আসছেন গ্রামনী মেলা বলুহ মেলাতে। বলুহ
মেলায় সব ধরনের ব্যবসা বানিজ্য খুবই সন্তোষজক হয়, কেউ কখনও এই
মেলায় এসে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়নি তাই মানুষের পাশাপাশি মেলায় বেড়েছে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। হাজরাখানা দাখিল মাদ্রাসা থেকে শুরু করে
গ্রামের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাকা সড়কের দুই পাশে বসে দোকান
আর শেষ হয় পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ) এর রওজা শরীফের নিচে কপোতাক্ষ নদের
পাড়ে যেয়ে। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে এবং যেখানে
খালি জায়গা সেখানে বসেছে দোকান। কি নেই বলুহ মেলাতে।
নড়াইলের বিখ্যাত রাজভোগ মিষ্টি, সদর খাটের সেই খিলি পান, রাজ
সিংহাসনের মত পালংখাট, বাহারী পোশাক ও প্রসাধনী, শিশুদের
বিনোদনে বিদ্যুৎ চালিত নৌকা, নাগরদোলা, ট্রেন, ভুতের বাড়ি,
অন্ধকুপসহ নানা ধরনের জিনিসে মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। মেলা
দেখতে প্রশাসনের বড়কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তি
গণমাধ্যমকর্মী, শিল্পি সকলেই ছুটে আসছেন এবং মেলার সার্বিক
বিষয়ে সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করছেন জানান আয়োজক কমিটি।
শনিবার দুপুরে মেলায় যেয়ে দেকা যায় প্রচন্ড ভিড়। রোদের তাপ ভ্যাপসা
গরম সব কিছু উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে চলেছে এক জায়গা হতে অন্য
জায়গায়। শিশু কিশোর,বৃদ্ধ, নারী প্রত্যেতে এসেছেন মেলাতে। কথা
হয়, মহেশপুরের যাদবপুর গ্রাম থেকে এসেছেন শহিদুল ইসলাম,
মাজেদা খাতুন। মেয়ে জামাই বাড়িতে দিবেন তাই ১৫ হাজার টাকা
দিয়ে একটি ওয়াল শোকেচ কিনেছেন, দাম নাগালের ভিতরে জিনিসও
ভাল তাই বেজায় খুশি নিন্ম আয়ের এই পরিবার। যশোরের মনিরামপুর
থেকে এসেছেন আব্দুর রাজ্জাক দম্পত্তি। তারা কাঠের তৈরী কিছু
আসবাবপত্র কিনবেন, দরদাম করেছেন তবে মেলার শেষের দিকে তারা
কিনবেন বলে জানান। নাগরদোলা নিয়ে আসা বাপ্পি বলেন, শুরু দিনে
কিছুটা মন্দভাব ছিলো তবে এখন ব্যবসা খুবই ভালো। সুদুর বরিশাল
থেকে মতিউর রহমান শিশুদের বিনোদনের জন্য নিয়ে এসেছেন পঙ্খিরাজ
নৌকা, স্লিপার ট্রেন ও ভুতের বাড়ি। ব্যবসা ভালো হচ্ছে বলে তিনি
জানিয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবি হাদিয়ার রহমান, বিপ্লব হোসেন, মিয়াজান আলী,
আলাউদ্দিন বলেন, প্রানের মেলা বলুহ মেলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু
মানুষ নানাবিধ চক্রান্ত চলছে। আমরা ৩০ জন্য স্বেচ্ছাসেবি সকাল
থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি এখানে কোনই সমস্যা নেই।
মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক
বিএম বাবুল আক্তার বলেন, একটি পক্ষ ফেসবুক ও কিছু কিছু
অনলাইনে মেলা নিয়ে নানা মিথ্যচার করছে যার বাস্তবে কোনই সত্যতা
নেই। গত দুই বছরে মেলার নামে অশ্লিলতা ও চাঁদাবাজি করতে না
পারায় ওই পক্ষটি মন্তব্য করছেন। প্রশাসন হতে দশ দিনের অনুমিতি
আছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বও সেটি শেষ হবে। ওই সময় পর্যন্ত সুষ্ঠু ও
সুন্দর ভাবে মেলা শেষ করতে কমিটি তথা গ্রামবাসি একতাবদ্ধ।















