যশোর বিমান বন্দরে নিলামে ঘাপলা!

0
102

নিজস্ব প্রতিনিধি : যশোর বিমান বন্দরে অকেজো মালামাল নিলামে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ না দিয়ে বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে এক্ষেত্রে সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সর্বোচ্চ দরদাতা যশোরের এম.আর ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী মাহাবুব আলম এ ব্যাপারে বিমানের ঢাকা কুর্মিটোলা সিএএবি’ব সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় যশোর বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপকের অধীনে অকেজো ইট,বালু ও পাথরের বর্জ্য পদার্থ নিলামে বিক্রি করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ১৮ আগস্ট যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.আর ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী মাহাবুব আলমসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে এম.আর ইন্টারন্যাশনাল ১২লাখ ৭৫হাজার টাকা দর দাখিল করে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। অথচ নিয়ম লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে চতুর্থ দরদাতা ঢাকার মেসার্স আরাফ ট্রেডিংকে দর বাড়িয়ে দিয়ে কৌশলে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার এ অভিযোগ করেন। নিলামে অংশগ্রহনকারী মেসার্স আরাফ ট্রেডিং এর প্রথমে দর ছিলো ১০লাখ টাকা এবং পে—অর্ডার ছিলো ৮০হাজার টাকা। পরে অবশ্য জালিয়াতি পন্থায় আরও ২০হাজার টাকা পে—অর্ডার বাড়ানো হয়। অর্থাৎ পরস্পর যোগসাজশে জাল—জালিয়াতির মাধ্যমে কর্মকর্তারা বিশেষ ব্যবস্থায় মেসার্স আরাফ ট্রেডিংকে কার্যাদেশ প্রদান করেন বলে দাবি করেছেন এম.আর ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী মাহাবুব আলম। তিনি অভিযোগ করেছেন, অবৈধভাবে কার্যাদেশপ্রাপ্ত মেসার্স আরাফ ট্রেডিং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ছুটির দিন ও রাতের অঁাধারেও নিলামকৃত মালামালের সাথে আরও অতিরিক্ত অন্যান্য মালামাল ডেলিভারি নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কর্মকর্তারা বাড়তি সুবিধা পেলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার। তাছাড়া বিষয়টি টেন্ডার আইনে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং রাতের অঁাধারে সরকারি নিলামকৃত মালামাল ডেলিভারি নেয়ার নিয়ম না থাকলেও এক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় অবৈধকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। ঠিকাদার মাহবুব আলম আরও জানান, আমি যাতে কোথাও অভিযোগ না করি সেজন্য যশোর বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান ও প্রকৌশলী এনামুল কবির আমাকে নানাভাবে হুমকি—ধামকি প্রদর্শন করা ছাড়াও প্রশাসন দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছেন। তারপরেও আমি সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঢাকা কুর্মিটোলা সিএএবি’র সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, যশোর জেলা প্রশাসক, কোতয়ালী মডেল থানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে অভিযোগ করেছি। তিনি বলেন আমি সুবিচার চেয়েছি, ইন্শাল্লাহ সত্যের জয় হবেই।
এ ব্যপারে যশোর বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিবো না। আপনি আমাদের সদর দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসারের সাথে কথা বলেন। কারণ এ বিষয়ে আমাদের সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here