ভবদহ অঞ্চলে মৎস্য ঘেরে প্রাকৃতিক শ্যাওলা: খরচ কমিয়ে লাভবান হচ্ছেন মৎস্য চাষীরা

0
294

রাহাত আলী,মনিরামপুরঃ যশোরের ভবদহ অঞ্চলের মৎস্য চাষীরা মাছের খাদ্য হিসেবে বাণিজ্যিক
ফিডের উপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক শ্যাওলা ব্যবহার করে
উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় জলাবদ্ধ বিলগুলো থেকে
সংগৃহীত ্য়ঁড়ঃ;পাটা শ্যাওল্য়াঁড়ঃ; এখন মাছের ঘেরগুলোতে প্রধান খাদ্য হিসেবে
ব্যবহৃত হচ্ছে, যা একদিকে যেমন খরচ কমাচ্ছে, তেমনি মাছের স্বাস্থ্য ও
বৃদ্ধি নিশ্চিত করছে। মৎস্য অধিদপ্তর এই পদ্ধতিকে পরিবেশ-বান্ধব ও
টেকসই হিসেবে বিবেচনা করছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায় ভবদহ অঞ্চলের মোট প্রায় ১০,৭৫২টি মৎস্য
ঘের রয়েছে। এই ঘেরগুলোর মালিকরা এখন নিয়মিতভাবে পার্শ্ববর্তী
বিলগুলো থেকে পাটা শ্যাওলা সংগ্রহ করে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার
করছেন। এই শ্যাওলা, যা ্য়ঁড়ঃ;মাছো শ্যাওল্য়াঁড়ঃ; নামেও পরিচিত, চিংড়ি ছাড়া
প্রায় সব ধরনের সাদা মাছের প্রিয় খাদ্য। ঘের মালিকরা জানান, এই
শ্যাওলা ব্যবহার করার ফলে তাদের বাণিজ্যিক ফিডের খরচ অনেক কমে
গেছে। মৎস্য চাষীরা বলছেন, বিল থেকে শ্যাওলা তুলে নেওয়ার ফলে দেশীয়
প্রজাতির মাছের চলাচল ও প্রজননের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া, প্রতিদিন প্রচুর শ্রমজীবী মানুষ এই শ্যাওলা সংগ্রহের কাজে
যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে
সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকায় দেখা যায়, মনিরামপুর
উপজেলার হাজিরহাট নেবুগাতী বিল থেকে শ্যাওলা সংগ্রহ করছিলেন
এলাকার ঘের ব্যবসায়ী সমির রায়, প্রশান্ত বিশ^াস, ঝন্টু সরকার। ঘের
ব্যবসায়ী প্রশান্ত বিশ^াস বলেন, “ঘেরের মাছ মোটাতাজা রাখা ও
রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে শ্যাওলা খুবই উপকারী।”
মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, মাছের খাদ্য হিসেবে পাটা
শ্যাওলা এখন খুবই জনপ্রিয়। এই শ্যাওলা ব্যবহার করলে মাছের রোগবালাই
কম হয় এবং বাণিজ্যিক খাদ্যের খরচও অনেকটা বাঁচে।্য়ঁড়ঃ;
মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী
অধ্যাপক নিহার রঞ্জন হালদার বলেন, মৎস্য ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে
প্রাকৃতিক শ্যাওলার ব্যবহার একটি চমৎকার এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
এই পদ্ধতি মৎস্য চাষীদের জন্য খুবই লাভজনক, কারণ এতে করে তাদের
বাহির থেকে কেনা দামী মাছের খাবারের ওপর নির্ভরতা কমছে।
প্রাকৃতিক শ্যাওলা, যা পুকুর বা ঘেরের পানিতে এমনিতেই জন্মায়,
মাছের জন্য একটি পুষ্টিকর ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস। এতে
মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগের প্রকোপও কম হয়। তিনি আরও
বলেন,শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, এই উদ্যোগের পরিবেশগত গুরুত্বও
অপরিসীম। বাইরে থেকে আনা খাদ্য অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অনেক সময়ই
জলাশয়ের পরিবেশ দূষিত হয়। শ্যাওলার ব্যবহার সেই ঝুঁকি কমায় এবং
জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মনিরামপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ সেলিম রেজা এই
উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ্য়ঁড়ঃ;বিল থেকে শ্যাওলা তুলে ঘেরে মাছকে
খাওয়ানো একটি পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই পদ্ধতি। এটি একদিকে যেমন
মৎস্য চাষীদের বাণিজ্যিক খাদ্যের খরচ কমায়, অন্যদিকে স্থানীয়
মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি করে মাছ উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।্য়ঁড়ঃ;

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here