যশোরে মাদকবিরোধী গণ শুনানি অনুষ্ঠিত

0
108

স্টাফ রিপোর্টার,যশোর থেকেঃ মাদকমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণশুনানি। জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এ এফ এম এহতেশামুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমান।
গণশুনানীতে যশোরের বিভিন্ন সেক্টরের শতাধিক স্টেক হোল্ডারগণ অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় দেশ ও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সমাজের সকল সেক্টরের স্টেকহোল্ডারগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান। তিনি বলেন, মাদক একটি সমাজকে ধ্বংসের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়েও মারাত্নক ভূমিকা পালন করে। একটি সমাজ ও দেশের যুব শক্তিকে ধ্বংসের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিত ভাবে নানা নামে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য পুশ করা হচ্ছে। আর্থিক ভাবে লাভবান হতে দেশের এক শ্রেণীর বিপথগামী মানুষ সেই মাদক চোরাচালানের সাথে যুক্ত হয়ে দেশকে ও দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে। এই জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এদেশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি। তাদের কারনেই দিন দিন দেশের যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে দেশকে মেধাহীন রাষ্ট্রে পরিণত করছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে মাদক বিরোধী শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্লোভ হয়ে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের সরকার দেশকে মাদকমুক্ত করতে এবং মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তার জন্য সমাজের প্রত্যেক স্টেক হোল্ডারহণকে নিজের অবস্থানে থেকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই আমরা মাদকমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে পারবো।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। জাতির বিবেক লোভ পাচ্ছে। সমাজে অশান্তি বিরাজ করছে। সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটা করা হচ্ছে সুপরিকল্পিত ভাবেই। কারন কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সর্ব প্রথম তার যুবশক্তিকে ধ্বংস করতে হয়, জাতিকে মেধাশুন্য করতে হয়। বিগত বছর গুলোতে আমাদের দেশকে সেই পথেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো বহুদিন ধরে পরিকল্পিত ভাবেই সেই কাজটি করে যাচ্ছে। ৩৬ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে সময় এসেছে সেই অবস্থার অবসান ঘটানো। আমাদের যুব সমাজকে জাগ্রত করতে মাদককে না বলতে হবে। যশোর হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহত্তর সীমান্তবর্তী জেলা। এই জেলায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। এই বিস্তৃত সীমান্ত পথে প্রতি দিন বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এই মাদকদ্রব্য পাচারের জন্য যশোর জেলাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। সীমান্তরক্ষাকারী বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এই মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে হবে। মাদক কারবারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। যারা মাদক পাচার ও মাদক সেবনের সাথে জড়িত তারা সমাজের বোঝা। তাই সম্মিলিতভাবে এদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে ৩৬ জুলাই পরবর্তী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলো সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদেরকে মাদক বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজে ও রাষ্ট্রের সকল স্টেক হোল্ডারগনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক বিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে হবে। কারণ মাদক মরনাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে মাদক আগ্নেয়াস্ত্রের মত কাজ করছে। তাই সমাজের সকল স্টেক হোল্ডারগনকে মাদকবিরোধী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সমাজের সকল স্তর থেকে যদি মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারণা হতে শুরু করে তবেই কেবলমাত্র দেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্র ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। আজকের এই গন শুনানি তারই অংশ।
পরে উন্মুক্ত আলোচনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
গণশুনানীতে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন
সাংবাদিক নূর ইসলাম, তৌহিদ জামান,ছাত্রপ্রতিনিধি রাশেদ খান, জামায়াতের নেতা নূর ই আল মামুন, বেলায়েত হোসেন,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here