যশোরের যশ খেজুরের রসে ঐতিহ্যের অমলিন স্বাদ এখনো জীবন্ত, রামনগরের গাছিদের ব্যস্ততায় মুখর শীতের সকাল

0
120

নাসির উদ্দিন নয়ন, কুয়াদা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের যশ খেজুরের রসে বহু বছর ধরে প্রচলিত এই প্রবাদটি আজও যশোরের গর্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করলেই যশোরবাসীর মনে জেগে ওঠে সেই সুগন্ধি খেজুর রসের স্মৃতি।
যশোর সদর উপজেলার ১১নং রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা, কামালপুর, খরীচাডাঙ্গা, কুয়াদা, বাজুয়াডাঙ্গা, সিরাজসিঙ্গার, পান্তাপাড়া, পূর্বপান্তাপাড়া, তোলাগোলদারপাড়া, ভাটপাড়া ও চৌঘাটা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গাছিরা খেজুর গাছ কাটার ও নল বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ভোরের কুয়াশা ভেদ করে গাছিদের ওঠানামা, আর তাদের হাতের ছোঁয়ায় রসের হাঁড়িতে জমতে শুরু করেছে শীতের প্রথম রস।
স্থানীয়রা জানান, যশোরের খেজুর রসের মিষ্টতা, ঘ্রাণ ও স্বাদ দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। এজন্যই আজও প্রচলিত আছে প্রবাদটি যশোরের যশ খেজুরের রসে।
এই খেজুরের রস থেকেই তৈরি হয় ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি গুড়, যা যশোরের আরেকটি ঐতিহ্য। স্থানীয়ভাবে তৈরি এই খেজুরের গুড় শুধু যশোরেই জনপ্রিয় নয় এই খেজুরের গুড় পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। যশোরের গুড়ের সুবাস ও স্বাদ এক আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
গ্রামজুড়ে এখন শীতের আগমনী বার্তা। কোথাও নতুন রস সংগ্রহ, কোথাও পাটালি তৈরির প্রস্তুতি যেন পুরো গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ।
কামালপুর গ্রামের গাছি আব্দুল হালিম বলেন, শীত এলেই আমাদের কাজের চাপ বাড়ে। রাতে গাছে নল বসাই, আর সকাল হলেই রস নামাই। সেই টাটকা রস বাজারে বিক্রি করি। আমাদের জীবিকা আর গ্রামের ঐতিহ্য দুটোই এই খেজুর গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
যশোরের মানুষের কাছে খেজুরের রস শুধু একটি খাবার নয় এটি এক ঐতিহ্য, এক গর্বের প্রতীক, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here