ফ্রি খাবার বাড়ি ও একজন দুখিনী মায়ের গল্প

0
397

জসিম উদ্দিন, শার্শা : স্বামী আর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অসহায় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ছবিরননেছা (৭২) নামে এক দুখিনী মা।জীবন বাঁচাতে দু’বেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে চায়ের দোকানে পানি তুলার কাজ করেন তিনি। সিমীত রোজকারে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার সংগ্রামী জীবন।রবিবার দুপুরে শার্শার নাভারণে পথ শিশু ও পাগলদের খাবার বাড়ি খেতে এসে কান্নারত অবস্থায় দৈনিক যশোরের ক্যামেরায় বন্ধি হয় ছবিরন। জানা যায় তার কান্নার পেছনের আলোকিত ঘটনা।চোখের কোনে এক সমুদ্র জল নিয়ে ছবিরন্নেছা বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন চায়ের দোকানে পানি তুলতে তুলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। এখন আর শরীরে বল পায়না। তারমধ্যে প্রচন্ড ক্ষুধার জালায় মাথা ঘুরছে।১৫ টাকা নিয়ে ক্ষেতে যাচ্ছিলাম এখানে আসতেই ইনারা আমাকে ক্ষেতে দিয়েছে। অনেক তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছি। এখন একটু ভাল লাগছে বাবা।পরিবারে কে কে আছে এমন প্রশ্নে অঝর ধারায় কষ্টমাখা জল গড়িয়ে পড়লো ছবিরন্নেছার দু’চোখ দিয়ে। কান্না করতে করতে বলেন এজগতে আমার আপন বলতে কেউ নাই।৭ বছরের এক ছেলে সন্তানকে ফেলে স্বামী মারা গেছে ৪০ বছর আগেই। একমাত্র সন্তানকে বুকে আগলিয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে নিয়ে পরের দুয়ারে দুয়ারে কাজ করে সন্তানকে বড় করেছি।আজ সেই সন্তানও বিয়ে করে দুরে কোথাও আলাদা থাকে। আমাকে কখনও তার বাড়িতে যেতে দেয় না, খেতেও দেয়না বলতে বলতে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।স্বামী সন্তানহীন ৭২’র বৃদ্ধ ছবিরন। তবু কেউ রাখেনা তার খোঁজ। পাইনা বয়স্ক ভাতার কোন সুযোগ সুবিধা। একটি মাত্র পেটের ক্ষুধায় রোজকার করতে রাস্তায় তিনি।পথ শিশু ও পাগলদের খাবার বাড়ির পরিচালনাকারী বাদল হোসেন বলেন, ছবিরন এখান দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলে তিনি খুব ক্ষুধার্ত। তাই তাকে রাস্তা থেকে ডেকে আমাদের এই ফ্রি খাবার বাড়িতে এনে খেতে দি। মাত্র দুই দিনে ফ্রি খাবার বাড়িটি খুব আলোচিত হয়েছে। ছবিরনকেও প্রতিদিন খাবারের জন্য বলা হয়েছে। ছবিরন যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তিনি এখান থেকে খাবার পাবেন।খাবার বাড়ির প্রধান উদ্যোগতা ও মানব সেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, পথ শিশু, পাগল, প্রতিবন্ধি, ভিক্ষুক এবং ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার খাওয়ানোর জন্যই আমাদের এই পথচলা। মানব সেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় আর্তমানবতায় কাজ করছে প্রবাশ ও দেশের কয়েক হাজার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। আমি সকলের প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here