কেশবপুরে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

0
207

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে কৃষকদের তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তুলার ফলন দেখে কৃষকের
পাশাপাশি তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চয় হয়েছে। কৃষকরা
বলছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ঝড় ও বৃষ্টি না হলে রেকর্ড পরিমাণ তুলার উৎপাদন
পাবেন। উপজেলার প্রত্যন্ত মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার কৃষকদের
তুলার ফলন এসেছে আশাতীত।
উপজেলা তুলা উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কেশবপুরে হাইব্রিড জাতের ৩২
হেক্টর ও উফশী জাতের ২৫৮ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়
প্রতিটি কৃষকের ক্ষেতে ব্যাপকহারে ফলন এসেছে। এ সময় তুলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি
করে ঝড় ও বৃষ্টি। তুলার ফলন দেখে কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিগত অনেক বছরেও এবারের মতো ফলন
ধরতে তারাও দেখেননি।
উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সামছুদ্দীন বলেন, গত বছর তিনি এক বিঘা
জমিতে তুলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু ফলন ভালো পাননি। এবার দু’বিঘা জমিতে চাষ
করেছেন। প্রতিটি গাছেই ব্যাপক ফলন এসেছে। প্রতিটি গাছে ফলন দেখে তিনি
বলেন, ২০ বছর তুলার চাষ করছেন। এবারের মতো ফলন তিনি এর আগে কখনো দেখেননি।
আগামী তিন সপ্তাহ যদি ঝড়-বৃষ্টি না হয় তাহলে রেকর্ড পরিমাণ তুলা পাবেন। তাতে
তিনি ভালো লাভেরও আশা করছেন।
উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুস
সামাদের এক বিঘা জমির তুলা গাছের নীচ থেকে উপর পর্যন্ত ফলন ধরেছে। ওই ক্ষেত দেখার
জন্য এলাকার অন্য কৃষকেরাও আসছেন। উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক অশোক
ঘোষ বলেন, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছেই ফুল ও
ফলন শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জমি তৈরি থেকে ফলন তোলা পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে
খরচ হয় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। তুলা পাওয়া যায় ২০ মণের অধিক। গতবছর প্রতিমণ
তুলা বিক্রি করেছিলেন চার হাজার টাকা দরে।
এ ব্যাপারে উপজেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ কহিনুর ইসলাম বলেন, কেশবপুরে এবার
রেকর্ড পরিমাণ তুলার আবাদ হয়েছে। প্রতিটি কৃষকের ক্ষেতেই প্রচুর পরিমাণে ফলন
এসেছে। আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে তুলা উঠানো শুরু হবে। এ সময় তুলার
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ঝড় ও বৃষ্টি। যদি এর মধ্যে বড় ধরনের কোন ঝড় ও বৃষ্টি না হয়
তাহলে কৃষকরা সর্বাধিক তুলা উৎপাদন করতে পারবেন। এতে করে আগামীতেও নতুন
নতুন কৃষকেরা তুলা চাষে ঝুঁকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here