হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই
পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাতটার
দিকে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাঙ্গা হাইওয়ে সড়কে
এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের হানুয়ার গ্রামের
শ্রমজীবি মোঃ রহমতুল্লাহর ছেলে সাকিবুর রহমান নিশান (২৩), মেয়ে রুকাইয়া আক্তার নীলা
(৩২) এবং জামাতা কেশবপুর উপজেলার চালতীবাড়ী গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান
(৪০)। মিজানুর রহমান একটি আরআরএফ এনজিওর ফরিদপুরের মধুখালি শাখার ব্যস্থাপক ছিলেন।
আহত হয়েছেন- নিহত মিজানুর রহমানের বোন বিউটি বেগম (৩০) ও অ্যাম্বুলেন্স চালক কৃষ্ণপদ
দাস (৫৫)। ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানায়- শনিবার সকালে যশোর থেকে ছেড়ে আসা একটি
অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এতে চালকসহ পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে মিজানুর
রহমান অসুস্থ ছিলেন। হাজী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নামের ওই অ্যাম্বুলেন্সটি মুনসুরাবাদ
এলাকায় পৌছালে ঢাকার দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর
ফলে অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী
নিহত ও চালকসহ দুজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নেওয়া হয়েছে। ট্রাক রেখে, পালিয়ে গেছে ট্রাক চালক। ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন- ঘন কুয়াশার কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পলাতক ট্রাক চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত
অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাক হাইওয়ে থানায় এনে রাখা হয়েছে। এদিকে, এদিন বিকাল ৪টার পর মনিরামপুর
উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনটি লাশ আনার পর হাজার
হাজার মানুষ তাদের একনজর দেখতে আসে এবং মাগরিফ নামাজের পর রাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ
ময়দানে তিনজনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় বিভিন্ন
শ্রেণি পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। এরপর নিশানকে রাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে
এবং নিশানের বোন এবং বোনাইকে কেশবপুর চালতিবাড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে
দাফন করা হয়। একই পরিবারের তিন তাজা প্রাণ নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজগঞ্জ এলাকায় চলছে
শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারি হয়ে উঠেছে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন- ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মনিরামপুরের একই
পরিবারের তিন জনের মত্যুর খবর আমাদের কেউ জানায়নি। নিহতদের পরিবার কোন আইনী সহায়তা
চাইলে আমরা সহযোগিতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।















