যশোর অফিস : সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, মানহানিকর বক্তব্য ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী নারী জেরিন সুলতানা। তিনি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বামনখালী গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নওদাগ্রাম এলাকায় বসবাস করছেন।
লিখিত বক্তব্যে জেরিন সুলতানা জানান,২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাউলী গ্রামের মৃত জড়ান বিশ্বাসের ছেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে মুসলিম শরীয়াহ মোতাবেক তার বিবাহ হয়। বিবাহকালে ৬০ হাজার টাকা মোহরানা নির্ধারিত ছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ১৬ বছর বয়সী পুত্র সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
বিবাহ বিচ্ছেদের পর জীবিকার তাগিদে তিনি পাইকারি ও খুচরা থ্রি-পিস, শাড়ি ও অন্যান্য বস্ত্রের ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, এরপর থেকেই তার সাবেক স্বামী জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে ও সরাসরি তার বাসায় এসে গুম, খুন ও গুরুতর জখম করার হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, হাউলী গ্রামে চলমান একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে আলী কদর, জিয়া রহমান ও তার সাবেক স্বামী জহিরুল ইসলাম মিলে একটি তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয় এবং ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে তাকে মাদক ব্যবসায়ী, পরপুরুষে আসক্ত এবং একই গ্রামের এক ব্যক্তির ‘রক্ষিতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সম্মানহানিকর বলে দাবি করেন তিনি।
জেরিন সুলতানা বলেন, এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করায় তিনি শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞ আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।















