কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, যশোর জেলা

0
54

প্রেসবার্তা : উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, তেভাগা আন্দোলনের অগ্রণী নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আজীবন বিপ্লবী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রয়াত সভাপতি কমরেড অমল সেন-এর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, যশোর জেলা।
যশোর নড়াইল–বাকড়ি অঞ্চলে অবস্থিত কমরেড অমল সেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন কমরেড খবির শিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া শিকদার ইলা, সুরাইয়া শিকদার এশা, আরিফা আক্তার, রায়হান রশিদ আবির ও নয়ন আহমেদ।
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানকালে নেতৃবৃন্দ কমরেড অমল সেনের বিপ্লবী জীবন, তেভাগা আন্দোলনে তাঁর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সংগঠক ভূমিকা এবং আজীবন শ্রেণিসংগ্রামের প্রশ্নে আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড অমল সেন ছিলেন সেই বিপ্লবী ধারার প্রতিনিধি, যিনি মার্কসবাদকে কেবল তত্ত্বের আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং বাস্তব শ্রেণিসংগ্রামের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করেছিলেন। তেভাগা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি আধা-সামন্তবাদী শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক শ্রেণিকে সংগঠিত করেন এবং স্বাধীনতার পরপরই রাষ্ট্রক্ষমতার শ্রেণিচরিত্র নিয়ে স্পষ্ট ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন।
নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার নেতারা আরও বলেন, আজকের বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের সংকট মূলত আদর্শিক বিচ্যুতির ফল। সংসদবাদী মোহ, সুবিধাবাদী সমঝোতা ও বুর্জোয়া রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি বিপ্লবী আন্দোলনকে দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় কমরেড অমল সেনের রাজনৈতিক লাইন, তেভাগা আন্দোলনের শিক্ষা এবং শ্রেণিসংগ্রামভিত্তিক গণসংগঠনের পথ নতুন করে আত্মস্থ ও বিকশিত করা জরুরি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড অমল সেনকে স্মরণ করার প্রকৃত অর্থ কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন নয়; বরং মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বার্থে বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে পুনর্গঠনের শপথ গ্রহণ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here