স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক দোয়া মাহফিল গতকাল শনিবার বাদ আসর অনুষ্ঠিত হয়। যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর দক্ষিনপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন- ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান সেন্টু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জারুল হক খোকন, যশোর চেম্বারের পরিচালক সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম ও যশোর ইন্সটিটিউট নাট্যকলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট অভিনেতা আব্দুর রহমান কিনা। মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা দাউদ হোসেন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম, বিকে লিটন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এবং বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক ৩ বারের সফর প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশ প্রেমে উজ্জীবিত মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসায় সিক্ত দুই জন সফল রাষ্ট্রনায়ক। তাদের দেশপ্রেম ছিলো প্রশ্নাতীত। তাঁরা তাঁদের জীবন দিয়ে প্রমান করেছেন এই দেশ ছাড়া পৃথিবীতে তাঁদের কোন ঠিকানা ছিলো না। বিগত ফ্যাসিষ্ট হাসিনার সরকার বহু চেষ্ঠা করেও বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশ ছাড়া করতে পারেননি। তিনি স্বামীর ভিটামাটি বিসর্জন দিয়েছেন, একজন মমতাময়ী মা হিসেবে সন্তানকে দেশের জন্য কোরবান করেছেন কিন্তু তিনি নিজে দেশ ও দেশের মানুষকে কখনো ছেড়ে যাননি। তাইতো তিনি কঠিন কন্ঠে বলেছিলেন,” এই দেশে আমার জন্ম, এই দেশেই আমি মরতে চাই। এই দেশ ছাড়া পৃথিবীতে আমার কোনঠিকানা নেই। এই দেশের মা,মাটি ও মানুষের সাথে আমার আত্নার সম্পর্ক। এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।” তাইতো মহান রাব্বুল আলামিন এই মহান দেশপ্রেমিক মানবহিতৈষী রাজনৈতিক নেত্রীর দোয়া কবুর করেছেন। তিনি এই দেশের মাটিতে স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শাষিত আছেন। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তিনি ও তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পতাকাকে উর্দ্ধে তুলে ধরতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে আমাদের রায় প্রদান করে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করতে হবে। তিনি বলেন, যশোর উন্নয়নের কারিগর আমাদের অভিভাবক জননেতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরসূরি জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাতকে শক্তিশালী করতে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট প্রদান করতে হবে। যশোরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অমিতের কোন বিকল্প নেই। তিনি ইতিমধ্যে যশোরের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ধানের শীষ প্রতীকে জনরায়কে প্রতিফলিত করার মাধ্যমে দেশ ও জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের যে সুযোগ পাচ্ছেন তার জন্যও জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের অবদান কম নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, এই হামিদপুরবাসীকে অমিত হৃদয়ে ধারণ করেন। তাইতো তিনি সময় আর সুযোগ পেলেই আপনাদের কাছে ছুটে আসেন। তিনি আপনাদেরই সন্তান।
বক্তারা বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী অমিত ইচ্ছা করলে দেশে বা বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যশোরের মানুষের কথা ভেবে,তাদের উন্নয়নের কথা ভেবে জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের হাতছানি ছেড়ে রাজনীতির মতো কন্ঠাকাকীর্ণ রাস্তাকে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের পাশে দাড়াতে তিনি নিজের জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি কি আপনাদের কাছ থেকে একটা ভোট পাওয়ার আশা করতে পারেন না। এসময় উপস্থিত নারী পুরুষরা দুই হাত তুলে অমিতের পক্ষে,ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে তাদের সমর্থন পূর্ণব্যক্ত করেন। আলোচনা শেষে
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে খাবার বিতরণ করা হয়।
Home
যশোর স্পেশাল যশোর সদরের হামিদপুরে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা...















