চৌগাছায় মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারীর মৃত্যু

0
158

স্টাফ রিপোার্টার : যশোরের চৌগাছায় দোকানিকে কুপিয়ে হত্যার পর হামলাকারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। নিহতরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২) ও হযরত আলীর ছেলে আব্দুল আলীম পলাশ হোসেন (৩৫)। দু’টি হত্যাকাণ্ডের পর গোটা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার জগহাটি গ্রামের পলাশ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের কাছে কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করেন। পরে ওই জমিই পলাশ তার মা ও বোনকে দিয়ে হক সেবা করান। বিক্রি করা জমি আবার হকসেবা করা নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও পলাশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রফিকুল ইসলাম হক সেবা তুলে নিতে পলাশকে চাপ দিচ্ছিলেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলাম সলুয়া বাজারে নিজের মুদি দোকান খুলতে বাড়ি থেকে রওনা দেন। তিনি চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজসংলগ্ন আপেলের স’মিলের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা পলাশ তার ওপর হামলা চালায়। পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল পৌঁছালে রফিকুল ইসলাম মারা যান। এদিকে, হামলার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পলাশকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুরো জগহাটি গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করীম জানান, পলাশ সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রফিকুলকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে পলাশেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here