শীতেও মানুষের বাড়িতে পানি

0
19

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: শীতকালেও কেশবপুর উপজেলার কালীচরণপুর গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন
এলাকাবাসী। তীব্র শীতে উঠানের পানির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মানুষের।
কাদাপানিতে গ্রামের পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে। বসত বাড়ির আঙ্গীনায় পানি উঠে
আসায় তীব্র শীতের ভেতর গ্রামটির অনেক পরিবারকে ঘর থেকে বের হতে বাঁশের
সাঁকো দিয়ে রাস্তায় আসতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ উপরের ঘেরের পানি সেচ
দেওয়ার কারণে খাল দিয়ে পানি সরতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিন সুফলাকাটি ইউনিয়নের কালীচরণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালেও
মানুষের বাড়িতে এখনো পানি জমে আছে। বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে অনেকের দৈনন্দিন
কাজ করতে হচ্ছে। গ্রামে কৃষক রণজিৎ মল্লিক বলেন, বিলে ১২ থেকে ১৫ বছর ধান
হয়নি। জলের সঙ্গেই তাদের সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হচ্ছে। কাদাপানিতে পরিবেশ
হয়ে পড়েছে কলুষিত। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত বর্ষায় এলাকার মানুষের বাড়িতে পানি
ঢুকে পড়ে। সে পানি কিছুটা সরে গেলেও উপরের ঘেরের পানি সেচ দেওয়ায় নতুন করে
গ্রামের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ছে। মাসের পর মাস পানিবন্দি থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি
পেয়েছে। গরু ছাগল নিয়ে পড়তে হয় তাদের বিপাকে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জলাবদ্ধতা
নিরসনের দাবি করা হলেও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিলে ধান না হওয়ায় বিচালির
অভাবে গত আশ্বিন মাসে গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছি।
একই গ্রামের ভ্যান চালক সুকুমার মন্ডল বলেন, সেচ দেওয়া ঘেরের পানির চাপে বাড়িতে
আবারও পানি চলে এসেছে। গত ১৫ দিন ভ্যান গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারিনি।
গৃহবধূ চন্দনা মল্লিক বলেন, এলাকায় প্রচন্ড শীত পড়ছে। তার মধ্যে উঠানের পানির ভেতর
দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শিশু স্কুল ছাত্র পূর্ণেন্দ্র মল্লিক ও
ধ্রুব মন্ডল জানায়, শীতের মধ্যে উঠানের জলে নামতে ভালো লাগে না। গ্রামের অবসর
প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক পরিমল সরকার বলেন, বর্ষার সময় তাদের বাড়িতে পানি উঠে এসেছিল।
পানির কারণে গ্রামের পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে পড়েছে। গ্রামের অধিবাসী তুষার
সরকার বলেন, পানির কারণে পরিবেশ যেমন কলুষিত হয়ে পড়েছে। তেমনি মশার উপদ্রবও বৃদ্ধি
পাচ্ছে।
কালীচরণপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার অসীম বিশ্বাস বলেন, উপরের ঘেরের পানি
সেচ দেওয়ায় কাটাখালি খাল দিয়ে সরতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। বর্তমান
প্রায় শতাধিক পরিবারের বাড়িতে পানি। আরও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পানির
কারণে গ্রামবাসীকে পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেশবপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী
আশরাফুল আলম বলেন, ঘেরের পানি সেচ দেওয়ার কারণে কালীচরণপুর গ্রামের মানুষের
কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে নদী খনন হয়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here