যশোরে চোরাই ট্রাক কেটে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা , এলাকায় তোলপাড়

0
12

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া একটি নতুন ট্রাক যশোরে এনে কেটে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের বকচর এলাকার খাদেম মার্কেটে এহসান মোটরস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। গাড়িটি টুকরো টুকরো করে কাটার কাজ চলাকালীন ইফাত অটোসের কর্মকর্তার চোখে ধরা পড়লে পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। ইফাত অটোসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের কাপাশিয়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. রোকনের মালিকানাধীন একটি ১৪ টনের ট্রাক—যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১৫-৯৯০৬, ইঞ্জিন নম্বর সযযু৪০৭৬৪০ এবং চ্যাসিস নম্বর সন১ধ২যধপ৪সৎযহ৩৬২৯—গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। ট্রাকটি দুই বছর আগে ইফাত অটোস থেকে কিস্তিতে কেনা হয়েছিল এবং এখনো এর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, ট্রাকটি চুরির বিষয়টি জানার পর থেকে তারা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। সোমবার সকালে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বকচর এলাকায় খোঁজ নিতে এসে তিনি দেখতে পান, তাদের কোম্পানির বিক্রি করা একটি নতুন ট্রাক কেটে আলাদা করার কাজ চলছে। বিষয়টি দেখে তার সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে ভালোভাবে পর্যবেণ ও চ্যাচিসের নাম্বার চেকিং করে নিশ্চিত হন—এটিই সেই নিখোঁজ ট্রাক। কামরুল ইসলাম বলেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখানে এনে বডি আলাদা করে কেটে ফেলার প্রস্তুতি চলছিল। মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি একেক সময় একেক ধরনের অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, ট্রাকের প্রকৃত মালিক মো. রোকন ইতোমধ্যে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন এবং তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এহসান মোটরসের মালিক আহসান মাহমুদ দাবি করেন, তিনি নিজে অন্য এক পরে কাছ থেকে ট্রাকটি কিনেছেন। তবে সেই পরে পরিচয় বা বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “যাদের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছি, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত কথা বলব। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, তাদেরকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। জানালে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here