যশোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ

0
600

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সরকারী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তাসনীম ইসলাম রোজা দারুণ উৎফুল্ল। সহপাঠীদের সাথে প্রায় এক বছর পর দেখা হবে। এই আনন্দে গত রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। কখন সকাল হবে, জীবনে প্রথম কলেজে যাবে । তাই ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে কলেজের ইউনিফর্ম পরে আগে ভাগেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে কলেজের পথে। কলেজ গেটে পৌছে রোজা হতবাক হয় কলেজের প্রবেশ মুখের সাজসজ্জা আর কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা আর কর্মচারীদের আতিথেয়তা দেখে। কলেজের প্রবেশ মুখ জুড়ে বিশাল সাজসজ্জা। আর গেটের সামনে সারি সারি গোলাপ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটা করে মাস্ক, একটা ছোট্ট হ্যান্ড স্যানিটাইজারের শিশির সাথে একটা গোলাপ ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার এই দৃশ্য বিরল। আর গেটের পাশে বেসিন সেট করে তার উপরে লেখা আসুন হাত থুই। আর এসব কিছুই দেখে অভিভুত রোজা। তার মতো তার সহপাঠীরাও অভিভুত। এ ছিল গতকাল যশোর সরকারী মহিলা কলেজসহ জেলা শহরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্য। কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ আহসান হাবিব বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠেছে। বহুদিন পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কলকাকলীতে মুখরিত পরিবেশ। বিশেষ করে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয় গত বছর। নিয়ম অনুযায়ী কলেজের প্রথম দিনে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরণের মাধ্যমে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বরণ করে নেন। কিন্তু এবছর করোনা মহামারির কারনে সেই সুযোগ হয়নি। ফলে আজ কলেজ জীবনে প্রথম দিনে ওই সব শিক্ষার্থীকে একটু ফুল আর মাস্ক সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভিন্ন আমেজে বরণ করে নেওয়া হলো। এতে করে তাদের মানসিকতা একটু পরিবর্তিত হবে। বহু দিন পর ক্যাম্পাসে ফেরার আনন্দটাও তারা একটু অনুভব করবে। করোনা মহামারির কারনে গত বছরের ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর গতকাল থেকে একযোগে খুলেছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ফিরে পেয়েছে শিক্ষাকাল। ফলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছিল উৎসবের ইমেজ। খুব সকালে যশোর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে স্কুলে এসে স্কুলের ডেকরেশন দেখে শিক্ষার্থীরা অভিভূত । গেটের পাশে হাত ধোয়ার জন্যে হ্যান্ড ওয়াশ, পানি। গেট সাজানো হয়েছে রঙ-বেরঙের ফুল দিয়ে। তাদের স্বাগত জানাতে স্কুল কর্তৃপ টাঙিয়ে দিয়েছেন ব্যানার। এই দৃশ্য ছিল গতকাল রোবাবর সকালে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে। স্কুলের ভেতরে শিকিাগণ প্রায় সকলেই একই রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের প্রিয় শিার্থীদের বরণ করে নিতে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্কুলে প্রবেশ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। তার আগেই সেখানে উপস্থিত হন যশো জেলা শিা অফিসার একেএম গোলাম আযম। আর আগে থেকেই গেটে দাঁড়িয়ে সবকিছু তদারকি করছিলেন স্কুলের প্রধান শিকিা লায়লা শিরীন সুলতানা। পঞ্চম শ্রেণির এক শিার্থী স্বাস্থ্যবিধির সব পদপে সম্পন্ন করে তার কাসের দিকে যাওয়ার পথে জানায়, আজকের দিনটার জন্যে তারা বহুদিন ধরে অপো করছিল। স্কুলে ঢুকতেই মনটা ভাল হয়ে গেছে। বহুদিন পর স্যার-ম্যাডামদের সঙ্গে দেখা হবে; বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে-কথা হবে, খুব খুশি লাগছে তার। কাস রুমে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আহমেদ ফারিন। বললো, দেড় বছর পর স্কুলে ঢুকেই আনন্দ লাগছে। কতোদিন পর স্যার-ম্যাডামদের সঙ্গে সাাৎ হলো! সব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কুশল বিনিময় করলাম আজ সশরীরে! একই অবস্থা ছিল যশোর কালেক্টরেট স্কুল, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, যশোর জিলা স্কুল, যশোর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন, যশোর শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর মুসলিম একাডেমি, যশোর আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল একাডেমী, যশোর সেবাসংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঘোপ মাহামুদুর রহমান স্কুলসহ জেলা প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এদিকে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ায় বাচ্চারা খুব খুশি হলেও শঙ্কা কাটছে না অভিভাবকদের। যশোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের পাশে থাকা কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বহুদিন পর স্কুল খুলছে, তাতে বাচ্চারা খুশি। কিন্তু শঙ্কার কথা হচ্ছে, তারা সবাই মাস্ক পরে থাকবে কি না। বন্ধুদের সঙ্গে কাছাকাছি হবে, কথা বলবে- হাত ধরাধরি করবে! এতে করে সংক্রমণের একটা ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এসএসসি পরীার্থী একজনের অভিভাবক বললেন, কাস টাইম দুই ঘণ্টা করা হয়েছে মেয়েদের। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ, সামনে পরীা- কীভাবে কমপ্লিট করবে বাচ্চারা! তিনি পরীার্থীদের কাসের সময় বৃদ্ধি করার আবেদন করেন। যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিকিা লায়লা শিরীন সুলতানা বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুল খুলেছি। এরআগে গোটা স্কুল ক্যাম্পাস, কাস রুম, বাচ্চাদের কমন রুম, টয়লেট- সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় দূরত্ব ঠিক রাখতে মার্কিং করা হয়েছে, কাস রুম শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিকরাও খুব খুশি স্কুল খুলতে পেরে। আশা করছি, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবো। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকবে না। জেলা শিা অফিসার এ কে এম গোলাম আযম বলেন, আমরা যশোরের সব স্কুলে বাচ্চাদের স্বাগত জানানোর জন্যে, তাদের স্বাস্থ্য সুরার জন্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে শিা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছি। দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে যেন তারা আতঙ্কগ্রস্থ না হয়, বরং প্রফুল্ল থাকে- সেই বিষয়ে শিক-অভিভাবক সকলের প্রচেষ্টা রাখার পরামর্শ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আজ রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাস শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে; হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার জন্যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here