কুমারখালীর পাহাপুর গ্রামে শিার্থীহীন স্কুলে চাকরি নিয়ে চিন্তায় শিকরা

0
348

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়া ঃ প্রায় ৫ বছর ধরে চলছে এলাকায় আধিপত্য। চলছে হামলা ও ভাংচুর। দিনেদিনে গ্রামে মানুষ কমছে। বিদ্যালয়ে শিার্থী ও কমছে। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাবে। বলছিলাম কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর ৩৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। সরেজমিনে গেলে দেখা যাই বিদ্যালয়ের শিার্থীর চেয়ে তিনগুণ বেশি শিক উপস্থিত ছিলেন। এসময় শুনশান পরিবেশ বিদ্যালয়ে। দেখা যাই ৬ জন শিক স্কুলের বারান্দায় বসে আছে। আর একজন শিক পঞ্চম শ্রেণির শিার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। পঞ্চম শ্রেণির কে গিয়ে দেখা মেলে, মাত্র ২জন শিার্থী বসে আছে বেঞ্চে। একজন শিক তাঁদের ইংরেজি পড়াচ্ছেন। আর ব্লাকবোর্ডে লেখা রয়েছে উপস্থিত শিার্থী ২ জন এবং অনুপস্থিতি ২৫ জন শিার্থী।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে এলাকায় দুপরে আধিপত্য বিস্তারে দুপরে চলছে হামলা ও ভাংচুর। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে এক পরে একজন খুন হয়। খুনের ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত রয়েছে। আর হামলা, মামলা ও ভাংচুরের ভয়ে পালিয়েছে গ্রামবাসী। ফলে বিদ্যালয়ে শিার্থী আসেনি। তবে চাকুরি বাঁচাতে শিকরা এসে অলস সময় কাটাচ্ছে। শিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৩৩ সালে প্রায় ৫১ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ৩৭ নং পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের বর্তমানে মোট শিার্থীর সংখ্যা ১৫৫ জন। বিপরীতে শিক রয়েছে সাতজন। করোনার কারনে বিদ্যালয়ে বিশেষ পাঠদান চলছে। প্রতিদিন দেড়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। আর বুধবার সকালে ছিল চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান। এদিনে পঞ্চম শ্রেণিতে ২৭ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ৩২ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জন শিার্থী উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মোছা. তামান্না ইয়াসমিন বলেন, এলাকায় দুপরে সংঘর্ষ চলছে। ভাংচুর ও হামলা চলছে। একজন খুন হয়েছে। তাই বিদ্যালয়ে শিার্থী আসেনি। শিকরা চাকুরি বাঁচাতে প্রাণহাতে নিয়ে বসে আছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়পুর গ্রামে লস্কর ও মন্ডল গ্রুপের সংঘর্ষ চলে আসছে । সংঘর্ষে গত পাঁচ বছরে সাত জন নিহত হয়েছেন। প্রতিটি সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। নিয়মিত চলে হামলা ও মামলা। হামলা, ভাংচুর ও মামলার ভয়ে গ্রামছাড়া থেকে পরিবার গুলো। এবিষয়ে উপজেলা শিা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এজন্য শিকরা আসলেও শিার্থীরা আসেনি। শিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ডিপিও স্যারের সাথে কথা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here