তালায় নাসিমা হত্যা যেন অস্পষ্ট এবং রহস্যেঘেরা! সুষ্ঠ তদন্তের দাবি

0
329

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরা তালায় নাছিমা হত্যা মামলা যেন অস্পষ্ট এবং রহস্যঘেরা। গত ২৪ আগষ্ট সোমবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার মহান্দী গ্রামে পাট পচানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হলে একপর্যায় নাছিমা মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে কপাল ফুলে আহত হন। এঘটনায় স্থানীয়রা এবং তার ছেলে উদ্ধার করে মহান্দী বাজারে পল্লী চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায় নাছিমাকে। তবে ঐ মুহুর্ত্বে নাছিমার কপালে রক্তাক্তের কোন দৃশ্য বা শারীরিক অবস্থার কোন অবনতি না থাকায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এমনি বক্তব্য প্রতক্ষদর্শীদের। তবে এঘটনায় পরদিন ২৫ আগষ্ট সকালে নাছিমা নিজ বাড়িতে মারা যান। ঐ মুহুর্ত্বে যদি কোন ক্ষত না থাকবে তাহলে কেন তিনি মারা গেলেন ? তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বামী নাজের শেখ ৯ জনকে আসামী করে তালা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৯/২০২০। তার এই মামলাকে ঘিরে এলাকায় চলছে নানান রহস্যেঘেরা গুঞ্জুন।
একদিকে নাছিমার স্বামী নাজের শেখের দাবি তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে নাছিমাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে স্বীকার করতে নারাজ আসামীপক্ষ । চলছে পাল্টা-পাল্টি দাবির পালা। তবে নাছিমার মৃত্যু অস্পষ্ট এবং তড়িঘড়ি তদন্ত না করে সুষ্ঠ তদন্ত করে চার্জ গঠন ও দোষীকে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন মহান্দী গ্রামে গেলে কথা হয় নাছিমা হত্যা মামলার ২নং স্বাক্ষী হানিফ মল্লিক (৫৩) জানান, মারামারির পরে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি নাছিমা বেগমের কপাল ফোলা মাটিতে পড়ে আছে। তখন পাশ^বর্তী ভ্যান চালক ইকবল সরদারের ভ্যানে করে মহান্দী বাজারে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে নাছিমাকে দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে শুনতে পাই নাজেরের স্ত্রী নাছিমা মারা গেছে। তাৎক্ষনিক তার বাড়িতে গিয়ে দেখি কপালে এবং মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় নাছিমার মরদেহ পড়ে আছে। প্রতিবেশী আনিচ মোড়ল জানান, মাঠে কাজ করাকালিন লোকমারফৎ খবর পেলাম ডিপ টিউবওয়েল এলাকায় মারামারি হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই নাজের শেখের স্ত্রী নাছিমা বেগমকে বেধড়ক মারপিঠ করা হয়েছে সে কপালে ছোট্ট একটি কাটার দাগ এবং পাশে ফুলে রক্ত জমে রয়েছে। তখন তার ছোট ছেলে এবং ভ্যান চালক ইকবল তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে শুনি নাছিমা মারা গেছে। মহান্দী গ্রামের গফুর সরদারের ছেলে ভ্যানচালক ইকবল সরদার জানান, ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে নাছিমার ছেলে আমার ভ্যানযোগে তার মাকে মহান্দী বাজারে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তখন দেখি তার কপাল ফোলা কোন কাটার চিহ্ন নেই। তবে তার বেধড়ক মারপিঠের কারনে বমি হচ্ছিল। ইনজেকশন দেওয়ার পরে বমি বন্ধ হলে বেলা ৩টার দিকে তাকে আমার ভ্যানযোগে বাড়ি নিয়ে আসে। পরে সকালে শুনি সে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর পরে আমি তাকে সরাসরি না দেখলেও মোবাইলের ছবিতে দেখি তার কপাল অনেকখানি কাটা এবং প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে যেটি পূর্বে ছিলো না। নাছিমা হত্যা মামলার বাদী স্বামী নাজের শেখ তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এমনি দাবী করেছেন। তবে নাজের শেখকে ঘটনার আগের দিন আসামী পক্ষের মিন্টু এবং মনিরুল তাকে মারপিঠ করলে শারীরিক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। যার ফলে ঘটনার দিন তিনি প্রত্যক্ষ ঘটনাটি জানেন না বলেও জানান। তিনি আরও জানান লোকমারফৎ তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি শুনেছেন। এসময় তিনি সুষ্ঠ তদন্ত করে স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেন। তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত হত্যা বলা যাবে না। তবে মামলার তদন্ত চলছে এবং ২জন আসামীকে আটক করা হয়েছে বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here