রাজগঞ্জের মাঠে মাঠে আমন ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

0
300

রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : রাজগঞ্জের মাঠে মাঠে আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক। তাই কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে হেমন্তের নবান্ন উৎসবের আমেজ। কৃষকেরা আমন ধান মাঠ থেকে কেটে বাড়ীর উঠানে নিয়ে আসছে। কৃষকদের কষ্ঠার্জীত সোনালী ফসলের ছোয়ায় ভরে উঠছে গোলা। এখন বাংলা মাস কার্তিক, অগ্রহায়নের সঙ্গে গা ঘেঁষা-ঘেঁষি। শিশিরের মতো নিরবে অবির্ভাব ষড়ঋতুর দেশে নবান্নের সুবার্তা নিয়ে আসে কার্তিক। ফসলের মাঠে সোনালী হাসির আভা, ছড়িয়ে পড়ে কার্তিকের শুরুতেই, থাকে মোলায়েম কুয়াশার ছাতিম আর শিউলির মৃদু মন্দ সৌরভ হিমেল ছোঁয়া। সকাল সন্ধ্যার হেমন্তের মিহি কুয়াশা। “আশ্বিন গেল কার্তিক মাসে পাকিল েেতর ধান, সাড়ামাঠ ভরি গাহিছে কে যেন, হলদি কোটার গান, ধানে গান লাগি বাজিছে বাজনা, গন্ধ উড়িছে বায়, কলমী লতায় দোলন লেগেছে, হেঁসে কুল নাহি পায়, নক্সী কাথার মাঠে কবি জসীম উদ্দিন এভাবেই কার্তিকের রূপ লাবন্য বর্ননা করেছেন। এবার একটু আগে ভাগেই রাজগঞ্জে নবান্নের প্রস্তুস্তি শুরু হয়ে গেছে। রাজগঞ্জে চিরায়ত নিয়মে হেমন্তের মধ্যে ভাগে নতুন ধান ঘরে তোলার পর বাঙ্গালির নবান্ন উৎসব শুরু হয়। বাংলার কৃষক সমাজ প্রাচীন কাল থেকে নবান্ন উৎসব পালন করে আসছে। কালের বিবর্তনে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করতে ভুলে যায়নি আজও। গ্রাম বাংলায় কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পরিপূর্ন ভাবে উদযাপনের জন্য মেয়ে জামাইসহ আতœীয়-স্বজনদের বাড়িতে আমন্ত্রন করে এনে নতুন চালের পোলাও, পিঠা, ও পায়েসসহ রকমারি নিত্য নতুন খাবার তৈরী করে ধুম-ধামে ভুঁড়ি ভোজের আয়োজন করে। এবিষয়ে রাজগঞ্জের হানুয়ার গ্রামের কৃষক মোকছেদ আলী বলেন, গ্রাম্য বধুরা জামাইকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়িতে নবান্ন উৎসব পালন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপো করে। নবান্ন উৎসবে গ্রামের কৃষকেরা মিলে-মিশে গরু, মহিষ ও খাঁসি জবাই করে। হাট-বাজারের থেকে বড় মাছ কিনে আনে। এই নিয়মের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে এখন ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবের আমেজ। সব-মিলিয়ে রাজগঞ্জের কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালনের সর্বাতœক প্রস্তুত্তি নিয়েছে। এদিকে এখন পুরোদমে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। বর্তমানে ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। সে ধান সিদ্ধ করে ভাঙ্গিয়ে নতুন ধানের চালে নবান্নের ও জামাই আদরের প্রস্তুস্তি নিচ্ছে তারা। জানাযায়, এবার রাজগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে আমন মৌসুমে বিভিন্ন উন্নতজাতের ধান চাষ করেছে কৃষকরা। বর্তমানে কৃষকেরা এ ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। রাজগঞ্জের ঝাঁপা ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ভগীরথ চন্দ্র এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়া ভাল, তাই রোগ বালাই কম। কৃষি অফিসের সময় মত পরামর্শ পেয়ে কৃষকরা জমিতে যে পরিশ্রম করেছে তাতে করে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং এ ধান ঘরে তুলে কৃষকরা আগাম আলু-সরিষা চাষের দিকে ঝুকেছে। প্রোগ্রেসিভ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর সাবেক দুই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে ফিল্ড অফিসারের বাড়ি থেকে গরু ধরে আনলেন গ্রাহকরা স্টাফ রিপোটার:- প্রোগ্রেসিভ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর সাবেক দুই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে বিপাকে পড়লেন ফিল্ড অফিসার। মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমার টাকা ফেরত না পেয়ে ফিল্ড অফিসারে বাড়ি থেকে গরুর ধরে আনলেন গ্রাহকরা। ঘটনাটি ঘটেছে মনিরামপুর উপজেলার নোয়ালী গ্রামে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় প্রগ্রেসিভ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর যশোর জেলার কর্মকর্তা ও রাজগঞ্জ ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা মনিরামপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত্যু এরশাদ আলী সরদারের ২ ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল মতিন। দুই ভাই ২০০৬ সালে নোয়ালী গ্রামের আবু বক্করের বাড়িতে যাই। এবং তাকে দিয়ে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে বিভিন্ন লোভ-লালসা দেখিয়ে গ্রামের খলিল, আলেয়া, হামিদা, সুমন, সালমা আনিসুর, রাজ্জাক, হাফিজুরসহ ২৫ জনের নামে বীমা খোলায়। তাৎণিক আবু বক্করকে ফিল্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয় জেলা কর্মকর্তা। সেই থেকে আবু বক্কর গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে বীমার টাকা নিয়ে রাজ্জাক ও মতিন এর কাছে জমা দেয়। প্রায় ৬-৭ বছর ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে বীমার টাকা নিয়ে তাদের কাছে জমা দিয়ে আসছে আবু বক্কর। এরপর হঠাৎ আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল মতিন চাকরি ছেড়ে দেয়। আবু বক্করও বীমার টাকা আদায় করা বন্ধ করে দেয়। এদিকে গত বছরে বীমার টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় গ্রাহকরা ওই টাকা উঠানোর জন্য ফিল্ড অফিসার আবু বক্করকে তাগিদ দেয়। একপর্যায়ে আবু বক্কার গ্রাহকদের কাছ থেকে বীমার পাস বই ও জমা রিসিভ নিয়ে সাবেক জেলা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের কাছে দেয়। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক বীমার ওই কাগজপত্র উপরের অফিসে অফিসে জমা দিয়েছে কিনা তা সন্দেতীত রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন অতিবাহিত হতে গেলেও আজ পর্যন্ত কোন গ্রাহক বীমার টাকা ফেরত পায়নি যার কারণে ধারণা করা হচ্ছে জেলা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাই রাজগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল মতিন বীমার আদায়কৃত টাকা অফিসে জমা না দিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করেছে। তাই ফিল্ড অফিসার আবু বক্কার গ্রাহকদের কোন সন্তুষ্টিমূলক জবাব দিতে না পারায় শুক্রবার ভোরে বীমা গ্রাহক নোয়ালী গ্রামের খলিলসহ ৫-৬ জন আবু বক্কর এর বাড়ি থেকে একটি গরুর ধরে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে কথা হয় বীমা গ্রাহক খলিল সালমা হামিদা সহ সহ আরো অনেকের সাথে তারা প্রতিনিধিকে জানাই বীমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমরা সকল কাগজপত্র ফিল্ড অফিসারের কাছে দিয়েছি। বছর অতিবাহিত হতে গেলেও আমরা এখনো বীমার টাকা ফেরত পায়নি। যার কারণে আমরা ফিল্ড অফিসারের বাড়ি থেকে গরু ধরে এনেছি। ফিল্ড অফিসার আবু বক্কর এর সাথে তিনি বলেন আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে জেলা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক ও রাজগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল মতিনের কাছে জমা দিয়েছি। গ্রাহকদের বীমার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর জমা রিসিভ ও পাশ বই রাজ্জাকের কাছে দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তিনি বীমার টাকা কবে আসবে বা কবে পাওয়া যাবে এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারিনি বা দেয়নি। যার কারণে আমি ধারণা করছি তারা বীমার টাকা ঠিকমতো অফিসে দেয়নি বা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য কাগজপত্র উপরের অফিসে পাঠায়নি। তিনি আরো বলেন তারা দুজনই বীমার উপরের অফিসার হয়ে আমাকে বিপাকে ফেলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here