আকাশ ছুঁতে চাই কপিলমুনির ভ্যান ওয়ালা জামাল দম্পতি

0
925

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা ঃ
শৈশাব থেকে জাামাল গাজী হত দরিদ্র পরিবারে অভাবের ভিতর মানুষ হয়েছে। কিশোর বয়সে লেখা পড়া না শিখতে পেরে ৯ম শ্রেনী পড়া রোকেয়া নামক এক কিশোরীকে বিয়ে করে সংসার করতে শুরু করেন পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামের ভ্যান ওয়ালা জামাল গাজী। তার স্বপ্ন সে রোকেয়াকে নিয়ে শিক্ষার শেষ পর্যন্ত পড়াবে,সে আকাশ ছুঁতে চায় তাকে নিয়ে। তার পেশা ভ্যান চালানো, পয়সার অভাবে ভ্যানে সবার মটর থাকলেও জামাল গাজী পায়ে ভ্যান চালায়। বুজতে শিখে ভ্যান চালনা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারেনা জামাল,লেখা পড়া সে অন্যকে করতে দেখেছে,কিন্তু নিজে করতে পারেনী। কিন্তু মনের ভিতর তার বাসনা ছিল একটি স্বপ্নের,তা হল ভালবাসার বধুকে নিয়ে। জামাল গাজী পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়ানের নাাছিরপুর গ্রামের বিধবা রশিদার ছোট মেয়ে রোকেয়াকে ৯ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। জামাল তাার শিক্ষা পড়া শুনার স্বপ্নের কথা রোকেয়াকে বলে। রোকেয়াও সে হত দরিদ্র বিধবা মায়ের সন্তান সে তার স্বামীকে বলে আমাকে স্কুলে যেতে দাও তোমার স্বপ্ন আমি পূরণ করবো। সেখান থেকে ভ্যান ওয়ালা জামাল গাজীর সংসার সামলিয়ে রোকেয়া পড়াশুনা করতে শুরু করলো স্কুলে। আজ রোকেয়া স্কুল কলেজ গন্ডি পেরিয়ে এখন সে বি,এ,পরিক্ষার্থী ও এক সন্তানের জননী। করোনা কালীন পরিক্ষা বন্ধ তাই রোকেয়া এলাকার গরিব ঘরের ছোট বাচ্ছাদেরকে নিয়ে জামাল গাজীর বাড়িতে সকাল বিকালের পাঠ শালা খুলে বসেছে ফ্রি শিক্ষা দান করতে। এ বিষয় জামাল গাজী বলেন আমার পিতা ঈমান আলী গাজী খুবই গরিব,ইচ্ছা থাকলেও স্কুলে যেতে পারেনী। আমি যখন ভ্যানে করে শিক্ষার্থীদেকে স্কুল কলেজে নিয়ে যায় তখন আমার মনে হত আমি তো পারলাম না,আমার বিয়ে হলে তাকে পড়াশুনা করাবো। তিনি আরও বলেন আমাার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে,এখন রোকেয়ার একটা কাজ হলে আর ভ্যান চালাইতাম না, খুবই কষ্ট হয়। এ বিষয় কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন অনেকে আমরা সিনেমা বা নাটকে দেখি স্বপ্ন জয়ের গল্প ছবি বাস্তবে জামাল রোকেয়া দম্পতি আমাদের এলাকার দৃষ্টান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here