সুন্দরবন সুরক্ষায় গরান গাছ কাটা প্রয়োজন

0
294

শ্যামনগর ব্যুরো ঃ সুন্দরবন সুরক্ষায় সুন্দরবনের সম্পদ মূল্যবান গাছগুলি জন্মের বাধা সৃষ্টিকারী জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত গরান গাছ কাটা প্রয়োজন, বললেন ইউপি মেম্বর ও পেশাদার বনজীবিরা। সুন্দরবনের সম্পদ প্রধান মূল্যবান গাছগুলি জন্মের ব্যাঘাত ঘটার কারন জানতে চাইলে সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বর আব্দুল আজিজ সরদার ও আটুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর সহ কয়েক বনজীবি বলেন, সুন্দরবনের মূল্যবান ও প্রধান প্রধান গাছগুলি হলো- সুন্দরী গাছ, পশুর গাছ, ধোতল গাছ, বাইন গাছ, কাকড়া গাছ, জানা গাছ প্রভৃতি। এসকল মূল্যবান গাছের ফলগুলি নিচে পড়ে জোয়ারের পানিতে ভেসে বনের ভিতরে উঠে যায়। এ ফল থেকে গাছগুলি জন্মে। গরান গাছ জ্বালানী ছাড়া ব্যবহার হয় না। বন বিভাগের গেজেটে উল্লেখ আছে কোন গাছ প্রধান এবং কোন গাছ অপ্রধান। গরান গাছ প্রধানের মধ্যে না। গরান গুছ শুধুমাত্র জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার হয়। গরান গাছের উচ্চতা ৪ ফুট থেকে ৫ ফুট। এটুকু উঁচু হয়ে চারিদিকে ডালপালা ছড়িয়ে যায়। যার ফলে কোন আলো বাতাস নিচে পড়ে না। সেকারন মূল্যবান গাছগুলির ফল থেকে চারা জন্মাতে পারে না। ৮৮’র ঝড়ে বড় গাছগুলি পড়ে যাওয়ায় জঙ্গল ফাকা হয়ে যায়। সেকারন গরান গাছগুলি কাটা নিষেধ ছিলো। বর্তমানে গরান গাছের চাপে মূল্যবান গাছগুলি জন্মাতে পারছে না। তারা আরও বলেন, ৯১-৯২ সালে ১৪ লাখ মন গরান গাছ কর্তন করা হয়। যাহার প্রমান বন বিভাগে আছে। ৪০ বছর উর্ধ্বের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বলেন, এই জ্বালানী গরান গাছ না কাটলে মূল্যবান গাছগুলি জন্মাবে না। এমর্মে ডিএফও মামুন আংশিক প্রতিবেদনও দিয়েছেন। আটুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ শেখ একই কথা বলেন। সেকারন সুন্দরবন সুরক্ষায় সুন্দরবনের মূল্যবান গাছগুলি জন্মের ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী গরান গাছগুলি কাটা বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। গাছগুলি কর্তন করলে একদিকে যেমন মূল্যবান গাছগুলির জন্মের সহায়তা হবে অন্যদিকে মানুষের জ্বালানীর সহায়তা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here