ভোমরা বন্দরে ফলের কেমিক্যাল টেস্টিং কেন্দ্রের পরীক্ষন কর্মকর্তারা লুটে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের

0
284

মাস্টার শফিকুল ইসলাম, ভোমরা (সাতক্ষীরা) থেকে ঃ জীবনঘাতী করোনা ভাইরাসের মহাদূর্যোগ প্রবণ সময়ে ঘূষ বানিজ্যের চরম শিখরে অবস্থান করছে ভোমরা বন্দর ফলের কেমিক্যাল (ফরমালিন) টেস্টিং কেন্দ্র। সীমাহীন অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষখোর কেমিক্যাল পরীক্ষন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিযোগ উঠেছে । ভারত থেকে আমদানীকৃত ফলের কেমিক্যাল (ফরমালীন) পরীক্ষার নামে ঘুষ বানিজ্যে লুঠে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ভারত থেকে আমদানী হওয়া বিভিন্ন প্রকারের বিষক্ত ফরমালিন মিশ্রিত ফলের কেমিক্যাল পরীক্ষার লক্ষ্যে ভোমরা বন্দরে ২০১৩ সালে একটি কেমিক্যাল টেস্টিং কেন্দ্র স্থাপন হয়। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি ফরমালিন পরীক্ষার জন্য কোন কেমিক্যাল বা যন্ত্র এ টেস্টিং কেন্দ্রে দেখা যায়নি। আর এ সুবাদে তিনজন ফরমালিন পরীক্ষন কর্মকর্তারা ভারত থেকে আমদানী হওয়া ফলের কেমিক্যাল পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই বাধ্যতামূলক ফাইল প্রতি তিনশত টাকা ঘুষ বানিজ্য করে নির্বিঘ্নে টেস্টিং কেন্দ্র থেকে ফরমালিনমুক্ত নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষা রিপোর্ট প্রদান করে আসছে বলে একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৩ সালে ভোমরা বন্দরে কেমিক্যাল টেস্টিং কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী ও সহযোগি স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান ও উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম এবং সাম্প্রতি দায়িত্ব নিয়ে আছেন জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর রথীন্দ্রনাথ সরকার। বন্দর পরিচালনা পর্ষদের উর্দ্ধতন কর্তাদের ইঙ্গিতে দীর্ঘদিন সরকারী যাবতীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একচ্ছত্রভাবে ঘুষ বানিজ্যের দায়িত্ব পালন করে আসছে স্বাস্থ্য সহকারী ও সহযোগি স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান। এ কেমিক্যাল টেস্টিং কেন্দ্রে ভারত থেকে আমদানীকৃত ফলের ফরমালিন পরীক্ষার কোন প্রকার ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যবসায়ীদেরকে অগ্রিম ঘুষের টাকা পরিশোধ করে নিরাপদ কেমিক্যাল টেস্টিং রিপোর্ট নিতে হয়। আর আমদানীকৃত ফলের কেমিক্যাল পরীক্ষার নামে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নমুনা স্বরূপ প্রতি গাড়ী থেকে কমলা ১০ পিচ, আনার ৮ পিচ এবং ১ কেজি আঙ্গুর নেওয়া হয়। যেটা আদৌ কোন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয় না। এভাবে প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে পরীক্ষার নামে ফলের নমুনা স্বরূপ নেওয়া হচ্ছে মন মন ফল। দূর্নীতিবাজ পরীক্ষন কর্মকর্তা মিজান জমাকৃত ফল সাতক্ষীরার বিভিন্ন ফল বাজারে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য করে আসছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ভারত থেকে ভোমরা বন্দরে পূর্বে প্রতিদিন ৮০থেকে ৯০ গাড়ি ফল প্রবেশ করত এবং সম্প্রতি প্রতিদিন ৩৫/৪০ টি ফলের গাড়ী প্রবেশ করছে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩৫/৪০ গাড়ী ফল ভোমরা বন্দরে আমদানী হচ্ছে। আমদানীকৃত পন্যবাহী ফলের প্রতিগাড়ী বা ফাইল প্রতি নেওয়া হয় ৩০০ টাকা ঘুষ। যার প্রতিদিন ঘুষ বানিজ্য দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা, সপ্তাহে এর পরিমান হয় ৭২ হাজার টাকা, মাসে এ ঘুষ বানিজ্যের পরিমান হয় ১৭ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা এবং বছরে এ ঘুষ বানিজ্যের পরিমান বেড়ে হয় ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬ হাজার টাকা। আদায়কৃত ঘুষ বানিজ্যের টাকা বন্দরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বন্টন করার গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে পরীক্ষন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান । এব্যাপারে পরীক্ষন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফায় মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।এছাড়া পরীক্ষন কর্মকর্তা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আবুল কাশেমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here