বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ দশমিনায় উপসী বোরো-৮৯ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

0
294

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাশপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে যেন সবুজের সমারোহ। নতুন ধানের জাত উপসী-৮৯ বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। বৃদ্ধাঙ্গুলী টিপে টিপে জমি আবাদ করছেন ষাটোর্ধ কৃষক। ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা সাড়ে ১১টা। মৃদু হিমেল হাওয়ায় কাঁচা হলুদ রঙের মিষ্টি রোদ্দুর পীঠে ফেলে আরাম নিচ্ছেন মনে হলেও কাছে যেতেই দেখা যায় তাঁর চোখে মুখে কষ্টের অভিব্যক্তি। মাথায় কোমরে লালসালু পেঁচানো, সোয়েটার ও লুঙ্গি পরনে লোকটির মুখভরা সাদা দাড়ি। আবাদ সংকল্প দেখে মনে হয় এমন পরিশ্রমী কৃষকদের জন্যই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিতে কৃষকরা নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে এই সংবাদকর্মী’র সাথে উপজেলা দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের আজাহার ভান্ডারীর সাথে কথা হয়। মাউজভান্ডার শরীফের মুরিদ আজাহার ভান্ডারী, স্ত্রী, ৪ কন্যা ও ১ ছেলে নিয়ে ৭ জনের পরিবার তাঁর। বাপ-দাদার সূত্রধরে পাওয়া পেশাজীবী কৃষক তিনি। তাঁর এ গ্রামেই উফসী বোরো চাষাবাদে পানির অভাব ঘটনায় গত রবিবার মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষকরা। জানা গেছে, উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া হাজিরহাট এলাকায় ব্রীজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বগী খালে বাঁধ দেয়। জোয়ার-ভাটা ব্যাহত হওয়ায় পানিশূণ্য হয়ে পরে কৃষি জমি। মাটির জো শেষ হয়ে আসায় শেষ সম্ভাবনাটুকু হারাতে চায়নি কৃষক আজাহার ভান্ডারী। তিনি জানায়, ‘খড়ার শ্যাষে বইন্নার পানি জমছিল জমিতে। পানি নামার পর রোয়ার জো গ্যাছি¹া। ধান ওডার পর দাম ভাল দেইক্কা সব বেইচ্চা দিছি। এহন ঘরে চাউল নাই। বোরো রুইয়ে ধান কামাই করমুই। বউ গুরাগারা লইয়া বচ্ছর চলতে ফলাইতেই অইবে। কি আর করমু পানির লাই¹া রোওনের জোবা হারাইয়া লাভ কি! বুড়া আঙ্গুল দিয়ে গত কর্ইরা বীজ ঢুকাই, বালতির পানি দিয়া টিপ্পা টিপ্পা লাগাই।’ এই বছর এই গ্রামের ৩৫ কৃষক ২৬ একর উফসী বোরো-৮৯ চাষাবাদ করছে। আজাহার ভান্ডারীর আওতায় এই ব্লকে ৭০ শতাংশ। মোক্ষম সময়ে খালে বাঁধ জনিত ঘটনায় ব্লকে পানি তোলা বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল-আমিন’র প্রচেষ্টায় খালের বাঁধ স্থলে পানি চলাচলের জন্য অস্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ করে ব্রীজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিধিবাম ডালিজোবা (মরাকাটাল) সময়ে জোয়ারের পানি পৌঁছায় না এই গ্রামে। আজাহার ভান্ডারীর মতো সংকল্পিত কৃষকরা উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া, মধ্য বাঁশবাড়িয়া, গছানী, ঢনঢনিয়া, চরহোসনাবাদ, নেহালগঞ্জ, আদমপুর, বহরমপুর, বগুরা, দশমিনা, হাজিকান্দা, গোলখালী, আরজবেগী, সৈয়দজাফর, লক্ষীপুর, নিজাবাদগোপালদী, বেতাগীসানকিপুর, জাফ্রাবাদ, মাছুয়াখালী, আলীপুর, যৌতা, খলিশাখালী, চাঁদপুরা, রণগোপালদী, আউনিয়াপুর, গুলি, চরঘুনি, চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদি গ্রামে এ বছর উফসী বোরো-৮৯ আবাদ করছে।
সবচেয়ে বড় ব্লক উত্তর বাঁশবাড়িয়ার সভাপতি নুর জামাল গাজী জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি জমিতে উফসী বোরো-৮৯ আবাদ করছি। ব্লকের ৫০ কৃষক মিলে প্রায় দেড়’শ একর জমির চাষাবাদ সম্পন্ন করেছি ইতিমধ্যে। আশানুরূপ ফলন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জাফর আহম্মেদ বলেন, এ বছর ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে উফসী বোরো-৮৯ আবাদ করছে উপজেলার কৃষকরা। আশানুরূপ ফলন পেতে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি। কৃষকদেরকে ফসলের যত্ন নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here