ঈদকে টার্গেট করে সুন্দরবনকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা/ শুল্কফাঁকী দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শাড়ী কাপড় ঃ দেশীয় ব্যাবসায়ীরা হতাশ

0
289

মোংলা প্রতিনিধি : শুল্কফাঁকী দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শাড়ী কাপড় ও থ্রীপিচসহ অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী। ইতিপুর্বে সড়ক পথে অনেক শাড়ী কাপর ও অন্যান্য পন্যের চালান আটক হওয়ায় এবং আগত পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে সড়ক পথ ছেড়ে এখন সুন্দরবনের রুট নিরাপদ হিসেবে ব্যাবহার করছে চোরাকারবারীরা। তাই অবৈধ পথে আসা ভারতীয় পোষাকে সয়লাব হতে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলে বাজার গুলো। যার ফলে দেশীয় ব্যাবসায়ীরা হতাশা গ্রস্থ হয়ে পরেছে, চাহিদা কমছে দেশিয় কাপড়ের বাজারে। প্রশাসনের তৎপতায়ও থামছেনা চোরাকারবারীদের দৌরাত্ব। এরই মধ্যে চোরাই পথে আসা ভারতীয় শাড়ি কাপরের একটি বড় চালান সুন্দরবনের চরাপুটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাচারের সাথে জড়িত মাফিয়াদের চিহ্ণিত করতে না পারায় থামছে না অবৈধ ওই কর্মকান্ড।
প্রতি বছর ঈদ,বড়দিন আর নানা উৎসব আয়োজনে নতুন কাপড়ের চাহিদা বাড়ে বাজারের দোকান গুলোতে। আর লোকজনের এমন চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে বাংলাদেশের বাজারের প্রবেশ করে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের কাপড়ের বড় বড় চালান।
১২ মার্চ গভীর রাতে মোংলা বন্দরের পশুর নদীর সুন্দরবনের চরাপুয়িা এলাকা থেকে একটি দেশীয় ট্রলার বোঝাই প্রায় কোটি টাকা মুল্যের ভারতীয় শাড়ী কাপরের একটি বড় চালান জব্দ করে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। জব্দকৃত মালামাল আইনীপ্রক্রিয়া সনমপুর্ণ করার জন্য কোস্টগার্ড হেফাজতে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এ মুল্যবান শাড়ী কাপরের গাইডগুলো মোংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রক্রিয়া চলছে, যা পরবর্তীতে কি পরিমান কাপরের পন্য ও তার মুল্য নির্ধারন করা হবে বলেও জানায় কোস্টগার্ড সদস্যরা। তবে রাতে সুন্দরবনের গহিন থেকে এসকল ভারতীয় পন্যগুলো জব্দ করলেও পাচারের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড। ভারতীয় শাড়ীর চালান জব্দের ঘটনায় কোস্টগার্ডের উপর মোংলাসহ দক্ষিনাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে বার বার শুধু মাত্র শাড়ী, থ্রীপিচ ও সাটপিচ কাপড় আটক হয় কিন্তু পাচারকারী থাকে ধরা ছোয়ার বাহিরে এ নিয়ে ব্যাবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
মোংলা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ফেন্সি কোথ ষ্টোরের মালিক ও মোংলা বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ খোকন মিয়া জানান, নিয়মিত চোরাই পথে আসা কাপড়ের চালান জব্দ হচ্ছে কিন্তু কারা এর সাথে জড়িত তাদের চিহ্ণিত করা হচ্ছে না। তবে সুন্দরবনে বনরক্ষীদের চোঁখ আড়াল করে কি ভাবে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পন্য পাচার করছে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর সাথে বনরক্ষিরা কেউ জড়িত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখার জন্য আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবী ব্যাবসায়ীদের। তাই বেশ কয়েক বছর ধরে আহরহ ঘটছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে কাপড়ের চালান আসার ঘটনা। এ কারনে যারা ভারতীয় শাড়ী কাপড় বিক্রি করছেন তারাই কেবল ব্যবসা করছেন। কারন শুল্ক ফাঁকি দেয়ার কারনে কম মুল্যে ভারতীয় চাঁকচিকে শাড়ি ও থ্রি পিচ বিক্রি বেশি হচ্ছে। আর দেশীয় কাপরের পন্য বিক্রি করতে না পারায় বাকী ব্যাবসায়ীরা লোকসানে কবলে পড়ছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশী মানুষের ধিরে ধিরে কমছে দেশীয় কাপড়ের চাহিদা। মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিবুল আলম জানান, সুন্দরবন ও খুলনাসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় সরকারের শুল্কফাঁকী দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশী কাপড়ের চোরাচালান আটকের ফলে বাগেরহাট, মোংলা, খুলনা, যশোর ও সাতীরা এলাকায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে। যার কারনেই ১২ মার্চ প্রায় কোটি টাকার চালান আটকের সাফল্য টহলেরই অংশ। পাচারকারীরা নিজসার্থ ও বেশী মোনফা লোভের আশায় সরকারী কর ফাঁকি দিয়ে গোপন পথে বিদেশী শাড়ি কাপড় চোরাচালানী বা আমদানি করছে যা একবারেই কাম্য নয়। ভারত থেকে অবৈধভাবে মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে, এ লক্ষে কাজ করছে কোস্টগার্ড বাহিনীর সদস্যরা। তিনি দাবি করেন, আগের তুলনায় এখন অনেকটা কমে গেছে চোরাই পথে মালামাল আসার ঘটনা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসা মালামাল জব্দ হলেও কেন ওই পাচারের সাথে জড়িতরা আটক হন না এমন প্রশ্নের জবাবে জোনাল কমার্ন্ডার জানান, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারের সাথে জড়িতরা যান বহন ও পন্য ফেলে সুন্দরবনের গহিনে দ্রুত পালিয়ে যায় তাই তাদের আটক করা সম্ভব হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here