ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কয়রা উপকূলে বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন ।।  অব্যাহত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত

0
362
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব কাটলেও ও ভরা পূর্ণিমার জোয়ারের পানির উচ্চতা কমছে না ভাঙ্গাবাধ দিয়ে পানি ঢুকে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে 26 মে উপজেলার ভেঙে যাওয়া স্থানে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের  আংটিহারা বেড়ীবাধ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামসুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় সাংসদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকনির্দেশনায় এলাকার সহস্রাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধটি আটকাতে সক্ষম হয়। ফলে সম্পূর্ণভাবে পানিমুক্ত হলো দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন। জোয়ারের পানি মুক্ত হয়েছে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন। স্থানীয় সাংসদের দিকনির্দেশনায় ইউনিয়নটির তরুণ সমাজসেবক আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ শিকারির নেতৃত্বে সহস্রাধিক জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তেতুল তলার চর ক্লোজার মেরামত সম্পন্ন করেছে।
অপরদিকে কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম বাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে সহস্রাধিক মানুষ সকাল থেকে মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠের কোনা ক্লোজার ও পার্শ্ববর্তী পবনা ক্লোজার 2টি  মেরামত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে মহারাজপুর ইউনিয়ন এর দশালিয়ার  2টি ক্লোজার দিয়ে অব্যাহত পানি প্রবেশ করায় জেলাশহর খুলনার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক কয়রা পাইকগাছা সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অর্থাৎ কালনা থেকে অন্তবুনিয়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে 3 থেকে 4 ফুট পর্যন্ত গর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে স্থানীয় পথচারীরা পড়েছে বিপাকে। যানবাহন চলাচলে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই পানির চাপে গ্রাজুয়েট গ্রাম ও বাগালি ইউনিয়নের কিছু অংশ নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে। মৎস্য ঘের ও বাড়ির আঙিনার পুকুর গুলো নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এলাকাবাসী উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন এর পদ্মপুকুর ক্লোজার মেরামত কাজ সম্পন্ন করলেও ওই ইউনিয়নের গাতিরঘেরীর দুটি ক্লোজার দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান জানান আগামী দিন সকাল থেকে ওই বাধ দুটিও মেরামত করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান বাবু বলেন, এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘবে ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো  জাইকা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক টেন্ডার আহ্বান করেছে। ইনশাল্লাহ 2/4 দিনের মধ্যে মেরামত কাজ শুরু হবে। এবং তা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে। বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here