কালীগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ

0
251

মাহাবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) থেকে ॥ শুস্ক মৌসুমে কালীগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল ও নদী নালায় পানি নেই। পানির অভাবে ‘মাছে ভাতে বাঙালী’ অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে । মানব দেহে প্রাণীজ আমিষের ৭৮ ভাগ পূরনে সম নানা প্রজাতির ছোট মাছ। এ সব ছোটে মাছের অভাবে মানব দেহে পুষ্টিহীনতার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। খাল- বিল,হাওড়-বাওড় ও নদ-নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়া, নদীর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, মা মাছ নিধন, জলাশয় দুষণ, পানিতে কীটনাশক প্রয়োগ, রাুসে মাছের চাষ, মৎস্য আইন অমান্য ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছোট মাছ বিলুপ্তির যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মৎস্য অফিস সূত্র জানা যায়। প্রতিনিয়তই বড় মাছের চেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের বাজারে ভীড় থাকলেও পর্যাপ্ত মাছ নেই আবার মাছ থাকলেও উচ্চমূল্যের বাজারে ক্রয়মতা স্বল্প মানুষের। সরেজমিনে বাজার ঘুরে জানা যায়,কালীগঞ্জের বেশিরভাগ মৎস্য ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্থ এবং নিজেদের জাল থাকলেও জল নেই, নেই খাল-বিল, নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ। বাজারে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ চিরচেনা ছোট মাছের বাজার ব্যাপক চড়া। চাপিলা, চেলাপুটি, খয়রা, কৈ, শিং, মাগুর, ফেসা, রূপচাঁদা, দারকুনো, রয়না, পিয়ালী, বেলে, টেংরা, সরপুটি বাজারে নেই বল্লেই চলে। তবে ছোট চিংড়ি, পুটি, বাইম ও চাঁদা মাছের দেখা মিললেও একজন মৎস্যজীবির নিকট ২ কেজির বেশি কল্পনা করা যায়না। দামও সাইজভেদে ১’শ থেকে ৮’শ টাকা কেজি। দেশীয় প্রজাতির ভাল কৈ, শিং ও জিয়লের কেজি ৫-৮’শ টাকা দাম হাকানো হলেও বাজারে পর্যাপ্ত নেই। হাতে গোনা দু-চার কেজি চাপিলা, পিয়ালী, টেংরা মাছ প্রতি কেজি ৭-৮’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শরীরের ৭৮ভাগ প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরনে সম এ সকল ছোট প্রজাতির মাছ সংকটের অন্যতম কারণ, পানি ও নদ-নদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার, মা মাছ ধরার উপর নিষেধাঞ্গা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের জেলে অশোক কুমার জানান, স্বল্প মেয়াদীতে জলাশয় ইজারা দেওয়ায় মৎস্যচাষীরা বছর শেষে খামারে বিষ প্রয়োগ করে অতি অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বড় বড় মাছের চাষ করে। যে কারনে প্রাকৃতিক মাছের ডিম ছাড়ার সময় বেশিরভাগ ছোট মাছ মারা পড়ে যায়। জেলেদের পাশাপাশি গ্রামীণ নিম্নবৃত্ত-মধ্যবৃত্ত অনেকেই শখের বশে কিংবা জীবিকার তাগিদে এ পেশায় ঝুঁকে পড়লেও আশানুরূপ মাছ নেই। তারা দোয়ারী, ঘুনি, ধর্মজাল, বেড়া জাল, পাতজাল, খেপলা, কারেন্টজাল ব্যবহার করে ছোট প্রজাতির বিভিন্ন মাছ ধরলেও আজকাল বিল-বাওড়, মাঠে-ঘাটে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এসব মাছ ধরার যন্ত্রের চাহিদাও কম। এছাড়াও শিয়াল, ভোদর, সাপ, কচ্ছপ, মাছরাঙা, বক, চিল, পানকৌড়ির আক্রমনে কয়েক প্রজাতির ছোটমাছ এখন বিলুপ্তির পথে। ‘মাছে ভাতে বাঙালী’ একটি অতীত ঐহিত্য হারিয়ে বিলুপ্ত প্রায় ২০ প্রজাতির ছোটমাছ সংকটে পড়া শুধু কালীগঞ্জ বাসী নয় দেশের বহু অঞ্চলেই এর প্রভাব লনীয়। কালীগঞ্জ সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরণ করতে সমন্বিত উদ্যেগ প্রয়োজন, বর্ষা মৌসুমে মা মাছ নিধন, প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ত্রে সংরণ, জেলেদের এসব মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা, কীটনাশক ব্যবহার কমানো ও উন্মুক্ত জলাশয় দীর্ঘমেয়াদী ইজারার মাধ্যমে প্রাকৃতিক মাছ সংরণ করা সম্ভব। তাছাড়া এর উপকারীতা সম্পর্কে জনসচতেনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা বাড়ানো প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here