যশোরে এতিম শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা শত গুনি জনের বৃক্ষ

0
337

মালিকুজ্জামান কাকা : যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর শান্ত-নিবিড় এক গ্রাম। আরও অনেক গ্রামের ন্যয় এই গ্রামেও রয়েছে একটি দারুল কুরআন আদর্শ বহুমুখি মাদ্রাসা। নামে খুব একটা খ্যাতি না থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে অনন্য এক বিশেষত্ব। এযাবত মাদ্রাসা পরিদর্শনে যারা এসেছেন, তারাই একটি করে বৃ রোপণ করে গেছেন। মাদ্রাসা আঙিনা জুড়ে মনোরম গাছের চারা ও নেমপ্লেট যে কারো নজর কাড়বে। এখানেই এই প্রতিষ্ঠানটি অনন্য। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে রোপিত বৃ সারি সারি শোভা পাচ্ছে দারুল কুরআন আদর্শ বহুমুখি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। ৮০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে রোপণ করা ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছ। চারদিকে সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে সাজানো-গোছানো এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের পদচারণার কমতি নেই। তিন বিঘা ছয় শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। পাখির ডাক আর গাছের শ্যামল ছায়ার মায়ায় একবার আসলেই, আর ফিরে যেতে মন চায় না। যশোর শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দারুল কুরআন আদর্শ বহুমুখী মাদ্রাসা। এখানেই ঠিকানা পেয়েছে ৫০ জন এতিমসহ ৩৫০ শিার্থী। প্রতিষ্ঠানে অধ্য মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম, পদবি ও রোপণকৃত এসব গাছ দেখে শিার্থীরা সবসময় অনুপ্রাণিত হয়। পাশাপাশি যারা পরিদর্শন ও গাছ রোপণ করেছেন তারাও সেই স্মৃতি সংরণের জন্যে প্রতিষ্ঠানের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। নেমপ্লেটে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ জুন এ প্রতিষ্ঠানে একটি থাই পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। একইভাবে শোভা পাচ্ছে ঢাকা ও কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রওশন আলী, প্রধানমন্ত্রীর শিা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন, বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা যশোর জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, হুমায়ুন কবীর, শফিউল আরিফ, তমিজুল ইসলাম খান, মাগুরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার ইয়াকুব আলী মোল্লা, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ, সঞ্জয় কুমার বণিকের হাতে রোপণ করা গাছের নাম ও তারিখ। অতীতে এ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এসে বৃ রোপণ করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুসাইন শওকত, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা চেয়ারম্যান নূর জাহান ইসলাম নীরা ও যশোর ক্যান্টনমেন্টের লে. কর্নেল মামুনসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। দূর থেকে এ গুণীজনেরা প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ-খবরও নেন। বর্তমান অধ্যরে পিতা লিয়াকত আলী বিশ্বাস ১৯৮৪ সালে এ এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের দান ও নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক অনাবাসিক মিলে ৩৫০ জন শিার্থী রয়েছে। এছাড়াও বয়স্ক কুরআন শিা বিভাগে নারী পুরুষ মিলে পৃথক ১৩৮জন অধ্যয়ন করছেন। এ সীমিত সাধ্যের মধ্যেও শিার্থীরা প্রতিবছর উত্তোরোত্তর ভালো ফলাফল করছে। অন্যান্য শিাদানের পাশাপাশি মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিা বিভাগ, কৃষি বিজ্ঞান, বৃরোপণ, কারিগরি প্রশিণ বিভাগ এবং মৎস্য ও পশুপালন প্রশিণ দেয়া হয়। এই তথ্য দিয়েছেন মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরাই। প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা লিয়াকত আলী বিশ্বাস জানান, শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অনেকে বাঁধা দিয়েছেন প্রথমে। পরে তারাই এখন অনেকে ওই সময়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা এখন সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের অধ্য মোহাম্মদ নাজমুল হুদা জানান, প্রতিষ্ঠানটির অন্তত: একটি বহুতল আবাসিক ভবন এখন খুব প্রয়োজন। কারণ এলাকার দরিদ্র ও এতিম শিার্থীরা বর্ষা মৌসুমে ৪০ বছরের পুরানো টিনের ছাউনির নীচে বেজায় কষ্টে বসবাস করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here