মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় মিথ্যা বিয়ের প্রলোভনে নিজ ক্ষমতাবলে জিম্মি করে দীর্ঘদিন সংখ্যাঘু সম্প্রদযের এক গৃহবধুকে ধর্ষণের নব্য আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ভালবাসার ছলোনা করে সময় অসময় ওই নারীর কাছ থেকে কয়েক দফায় হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষধিক টাকা। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ নেতার মিথ্যা প্রলোভন বুঝতে পেরে ধর্ষণের বিচার ও বিয়ের দাবীতে মোংলা থানায় এজাহার দাখিল করেছে ওই গৃহবধু। কিন্ত থানার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্য জনক কারনে মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ, তাই সুবিচার পাওয়া আশায় পুলিশের দুয়ারে ঘুরছে অসহায় ভুক্তভোগী ওই নারী। ইউপি মেম্বারের এহেনো কর্মকান্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি এঘটনার সুষ্ঠ বিচারের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে তদন্তে কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে, অচিরেই মামলা রুজুর পর আসামীকে গ্রেফতার করা হবে। থানা দেয়া এজাহার সুত্র ও ভুক্তভোগী ওই নারী জানায়, মোংলা উপজেলার চাদপাই ইউনিয়নের দক্ষিন মালগাজী গ্রাম ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক অত্যান্ত উশৃঙ্খল দুশ্চরিত্র, লম্পট ও নারীলোভী প্রকৃতির লোক। তিনি এক সময় বিএনপি ক্ষমতামলে মালগাজী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। তার পরিবারের সদস্যরা সকলেই জামায়াত ও বিএনপির রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পুক্তা ছিলো বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী ও স্থানীয়রা। কিন্ত বর্তমান রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পর খোলস পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগে যোগ দেয় জাহাঙ্গির মল্লিক। পরবর্তীতে স্থানীয় দলীয় নেতা হয়ে ইউপি নির্বাচনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মাধ্যমে জোর পুর্বক ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় তার পুর্বের সেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। দক্ষিন মালগাজী গ্রাম প্রায়ই হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদয়ের লোক বসবাস করার ফলে দীর্ঘদিন থেকেই জাহাঙ্গির মেম্বারের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে আসছে এলাকার নারী-পুরুষরা। একই এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদয়ের এক গৃহবধুর উপর লোলপ দৃষ্টি পড়ে মেম্বার জাহাঙ্গিরের। গত ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর কৌশলে তার স্বামীর কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ করায় মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক। এর পর থেকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছে সে। এরই ফাকে কৌশলে ওই নারীর কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় নগদ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা। কিন্ত বছর খানেক তার এই মিথ্যা প্রলোভন ও প্রতারনা মুলক কার্যকলাপ বুঝতে পেরে জাহাঙ্গির মেম্বারকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে ওই নারী বলে তার অভিযোগে উল্লেখ করেন। কিন্ত বিয়ে করবে বলে আজ-কাল করে ঘুরাতে থাকে ইউপি মেম্বার। এক পর্যায় গত বছরের ১৭ জানুয়ারী বাগেরহাটে এক পীরের মাজারে শপথসহ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে মুসলিম শরিয়া মতে স্থানীয় মসজিদের ইমামের দ্বারা লিখিত ও পবিত্র কালেমা পাঠ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় বলে থানার অভিযোগে ওই নারী দাবী করেন। এ সময়ও তার কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে তার নামের ব্লাংক চেক দিয়ে আরও তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক। প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যে বিয়ে করার পর থেকে বিভিন্ন ভাবে কারনে-অকারনে তার বসত ঘরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো মেম্বার বলে জানায় অসহায় ওই নারী। এমতাবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর রাত্র ৯ টার দিকে অসহায় ওই নারীর ঘরে ডুকে বিয়ের কাগজ পত্র ও তার দেয়া চেক চুরি করে নিয়ে যাওয়া সময় বাধা ও প্রতিবাদ করলে করে সে। রাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীকে মারধর করে এবং তাকে বৈধভাবে বিয়ে করেনী বলে জানিয়ে দেয় মেম্বার। এছাড়াও তার সাথে স্বামী বলে দাবি, পাওয়ানা টাকা ও যোগাযোগ করা হলে জীবনে শেষ করে দেয়ারও হুমকি দেয় ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়রা বলেন, মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার নিজ হাতেই সংখ্যালগু সম্প্রদয়ের নারী-পুরুষ অনেকেই অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রতিবাদ করলে দলের ক্ষমতা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা মামলার শিকার হতে হয়। এছাড়া বিএনপি থেকে আওয়ামী দলের যোগ দিয়ে নব্য নেতা হয়ে যদি কেউ দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করে, এধরনের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় উপজেলা আওয়ামীলেিগর সাধারন সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন। এব্যাপারে মালগাজী এলাকার অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিক জানায়, অভিযোগকারী আমার ৫নং ওয়ার্ডের একজন সাধারন বাসিন্দা। তার স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ আমার মধ্যস্থতায় হয়েছে, সে সুবাধে তার বাসায় আসা-যাওয়া হতো তবে আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগই মিথ্যা। গত ইউপি নির্বাচনে একই ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ওই নারীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মোংলা শাখার হিন্দু,খ্রিষ্টান ও বৈদ্য ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু উৎপল মন্ডল বলেন, বেশ কিছু দিন যাবত মালগাজী গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গির মল্লিকের বিরুদ্ধে সংখ্যালগু সম্প্রদয়ের নারী-পুরুষের উপর অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া সম্প্রতি এক নারীর ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল কিন্ত তার কথাও কর্ণপাত করছে না মেম্বার জাহাঙ্গির। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিচারের দাবী জানায় ঐক্য পরিষদের এ নেতা। চাদঁপাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি যতটুকু জানতে পেরছি, দীর্ঘদিন ওই নারীর সাথে মেম্বার জাহাঙ্গিরের একটা সম্পর্ক রয়েছে কিন্ত সত্য মিথ্যা বা টাকা দেয়া-নেয়া তারা দুজনেই জানে। ঘটনা যদি সত্য হয় তবে প্রশাসন তার বিধিমোতাবেক আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবে বলে জানায় চেয়ারম্যান। মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম জানান, মালগাজী এলাকার এক নারীর সাথে মিথ্যা বিয়ের প্রলোভনে অনৈতিক কার্যকলাপে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির মল্লিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। উপ-পুলিশ পরিদর্শক বিশ্বজিৎ মুখার্জীকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে, যেহেতু টাকা পয়সার একটি লেনদেনের ব্যাপার রয়েছে তাই তদন্ত চলছে। অচিরেই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।















