মণিরামপুরে খেজুর গাছ বিলুপ্ত হওয়ায় মৃৎ শিল্প ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে

0
268

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : মণিরামপুরে মৃৎ শিল্প বছরে পর বছর যত পার হচ্ছে তত ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে ্এসে দাড়িয়েছে। শুধূ তাদের ্্্্্্্্্্্্্্্্্ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য তারা কোন রকম কাজ করে চলেছে। বর্তমান বিভিন্ন গ্রামের মাঠে বোরো ধানের আবাদ করার করণে খেজুর গাছ কেটে ফসলের জমি বড় করা ও নতুন খেজুর গাছ বড় না হওয়ার কারণে খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগে প্রতিটি মাঠ ভরা খেজুর গাছ ছিল। মণিরামপুরে প্রতি হাটে ২/৩টি ট্রাক গুড় লোড হতো। তখন মহিলারা ঠিলে ধুয়ে পরিস্কার করে দিত। দুপুরে ভাত খেয়ে গাছিরা ঠিলে নিয়ে খেজুর গাছ কাটতে যেত মাঠে। আবার রাতে রস এনে রসের পিঠা তৈরি করে সবাই মিলে খেয়ে আনন্দ করে ঘুমাত। ফজরের আযান দেওয়ার পর পর প্রতিটি বাড়ি থেকে ১/২ জন করে মাঠে রস পাড়ার জন্য যেত। তখন গ্রামে কোন দোকানপাট না থাকার কারনে হাট ভোর যা লাগবে তা গুড় বিক্রি করে কিনে নিয়ে আসত। আর সন্ধ্যার পর গ্রামের অধিকাংশ লোক ঘুমিয়ে পড়ত। বৃস্পতিবার উপজেলার খানপুর গ্রামে পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় শুভা রানি পাল, মধুমিতা পালসহ অনেকেই ঠিলে তৈরি করার কাজ করছে। কেউ মাটি পানি মিশিয়ে কাঁদা তৈরি, ঠিলে শুকানোর, ঠিলে মাথা ও তলা তৈরি কাজে ব্যবস্ত সময় পার করছে তারা। কাজ করার ফাঁকে কথা হয় মধুমিতা পালের সাথে তিনি বলেন, কি করবো বাবা, বর্তমান ঠিলের দাম কম। মাটি কিনে বিভিন্ন গাছের পাতা কিনে ঠিলে তৈরি করে পুড়ায়ে বাজারে বিক্রি করে কিছু থাকে না। তিনি আরো বলেন, আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে গুড় ও রসের ঠিলে সপ্তাহে দুটি হাটে ৪০/৪৫ গুড়ির ঠিলে বিক্রি হতো। গুড়ির ঠিলে প্রতি পিচ ৫০ টাকা ও রসের ঠিলে ২০/২৫ টাকা বিক্রি হতো। বর্তমান সপ্তাহে দুই হাটে গুড় ও রসের ঠিলে ১০/১২ কুড়ি বিক্রি হচ্ছে। গুড়ির ঠিলে ৩০টাকা ও রসের ঠিলে ১৫/১৭ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। শুভা রানি পাল জানায়, মণিরামপুরে হাটে নাম করা শিবপদ গুড়ির ঠিলে। বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গুড় ব্যবসায়ীরা এসে খুজে বেড়াতো শিবপদ সিল মারা গুড় চড়া দামে কিনে নিতো। এখন আর গ্রামে খেজুর গাছ না থাকায় আমাদের ঠিলে বিক্রি হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here