রূপদিয়ার গৌরাঙ্গ দাসের হস্তশিল্প পণ্য যাচ্ছে ইউরোপের ৭ দেশে সরকারি সহযোগীতায় এই হস্তশিল্প হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম

0
290

রাসেল মাহমুদ : বাঁশের চোঁচ, নারিকেলের কাতা (ছোবড়া) পেটের আঁশ, ধানের বিছালী, খেজুর গাছের আঁচা (ফাতরা) ও খড়কুটার মত ফেলে দেয়া জিনিষ দিয়ে গৌরাঙ্গ দাসের নিপুণ হাতে গড়ানো বিভিন্ন ডিজাইনের শোপিচ দেশের সিমানা ছাড়িয়ে রপ্তানি হচ্ছিলো ইউরোপের ৭টি দেশে। একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় এসব পণ্য রপ্তানি সম্ভব হচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে গৌরাঙ্গ দাসের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারত বলে আশা প্রকাশ করেন। দেশের অন্য আর পাঁচজনের মতো সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন এই হস্তশিল্পের কারিগর। যশোর সদর উপজেলার ১৪ নং নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া দাসপাড়ার বাসিন্দা মেধাবী এই হস্তশিল্পী গৌরাঙ্গ দাস। সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বেলজিয়াম থেকে অর্ডার পাওয়া বিভিন্ন ডিজাইনের ভিন্নভিন্ন নামীয় পাখির বাসা সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে কর্মব্যস্ত গৌরাঙ্গ দাস তার স্ত্রী-সন্তান ও আরো ৭-৮ জন। এনিয়ে কথা বলে জানা যায়, বাঁশের চোঁচ, ছন, বিচালী, খড়কুটা, খেজুরের আঁচা ইত্যাদি ফেলনা (ফেলে দেয়া) জিনিষ দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করছে হাতে বুনা বিভিন্ন ডিজাইনের পাখির বাসা সহ নান্দনিক সব শোপিচ। গৌরাঙ্গ দাস শুধু পাখির বাসায় তৈরি করেন না তিনি তার দু’চোখে যা দেখেন অথবা কেউ যদি ছবি তুলে বা ক্যাটালগ দেখিয়ে কিছু বানিয়ে দিতে বলেন হুবাহু সে ভাবেই তাই গড়িয়ে দিতে পারেন নিমিষেই। তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন ও মুগ্ধকর শোপিস যে কারোরই মন ছুঁয়ে যাবে। তার তৈরিকৃত শোপিচ গুলোর মধ্যে অন্যতম বাঁশের চাটই বা চাঁচ দিয়ে বিশেষভাবে বানানোর নৌকা, ছনের কুঁড়েঘর, ফুলদানি সহ নান্দনিক ডিজাইনের খেলনা সামগ্রীও। অদৃশ্য করোনা মহামারীর পূর্বে তার এই হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি হতো অস্ট্রেলিয়া, হলান্ড, পর্তুগাল, জার্মান, নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মত দেশে। জানা যায়, দেশ গুলোতে এসব হস্তশিল্প পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যা করোনা মহামারীতে থমকে গেছে। গৌরাঙ্গ দাস ১৯৮৬ সাল থেকে বাঁশ ও বেত দিয়ে ডালা, ঝুড়ি, কুলো, ঢামা, চালন, মাছ ধরা পোলো ইত্যাদি সব গৃহস্থলীর আসবাবপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আধুনিকতার বদৌলতে এখন ওসব জিনিসের কদর না থাকায় বাপদাদার পেশা না পাল্টে মানুষের চাহিদা বিবেচনায় পণ্য তৈরিতে ভিন্নতা এনে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন শোপিচ তৈরি করে আসছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই ফের নতুন মাত্রায় স্থবিরতা গোটা বিশ্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here