মোংলায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-৫, আটক-৩

0
212

মাসুদ রানা,মোংলা : মোংলায় ইউপি নির্বাচনী প্রতিহিংসায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খরমা কাটাখালী চায়না মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। থানায় মামলার দায়েরের পর কবির চেয়ারম্যানের সমর্থক ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে থানা পুলিশের পক্ষপাতিত্বের কারনেই এঘটনার সুত্রপাত বলে অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদারের। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
প্রত্যাক্ষদর্শী ও মামলা সুত্রে জানা যায়,মোংলা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকেই সুন্দরবন, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নে বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনীয় প্রতিসিহংষা মুলক মারামারী ও সংঘর্ষ লেগেই আছে। এসকল ইউনিয়নগুলোতে ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে এমন অপ্রিতিকর ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবন ইউনিয়নে পুর্ব শত্রুতার জের ও দুই চেয়ারম্যান সমর্থকদের অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এ সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়।
৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের দিগরাজ বাজার খরমা কাটাখালী চায়না মার্কেট এলাকার বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান কবির শেখ’র সমর্থক মঈনউদ্দীন শেখের ছেলে নাইম শেখ’র সাথে ফুটবল খেলা নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদার’র সমর্থক হারুন হাওলাদারের ছেলে আলম হাওলাদার’র কথা কাটাকাটী হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে লাঠি-সোঠা ও দা-কুড়াল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারী ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায় পুর্ব শত্রুতার জেরে বিষয়টি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়।
এতে বর্তমান চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদার সমর্থক গ্রæপের আলম হাওলাদার (৩৫), রকিবুল হাওলাদার (২৭) ও আজিজুল হাওলাদার (৪৭) সহ কয়েকজনকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে কবির চেয়ারম্যানের লোকজন। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবির চেয়ারম্যানের সমর্থক লুৎফর শেখ (৫৫), নাইম শেখ (১৭)কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় চিকিৎসারত অবস্থায় আলম হাওলাদার ও রকিবুল হাওলাদারের অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক মোংলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবন ইউনিয়ন থেকে মারামারীর ঘটনায় ৫জন মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তবে বাকি ৩জন এখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তাদের অবস্থ অগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে কয়েকজনকে আসামী করে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবারে। মামলার সুত্রধরে শুক্রবার দুপুরে কবির চেয়ারম্যানের সমর্থক মইন উদ্দিন শেখ, নাইম শেখ ও লুৎফর শেখ নামের তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মোংলা উপজেলা সুন্দরবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ একরাম ইজারাদার বলেন, সুন্দরবন ইউপি নির্বচানের পর থেকেই সাবেক চেয়ারম্যান কবির শেখ’র সমর্থকরা আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিতে পারছেনা না। তাদের মনোনীত প্রার্থী কেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়নী তা নিয়ে এলাকায় প্রতিনিয়ত লুটপাট, সংঘর্ষ, মারামারী ও একে অপারের প্রতি ঝগড়া ফ্যাসাদ লাগিয়েই রাখছে। এছাড়া এলাকায় উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডে বাধা সৃস্টি করছে তার সমর্থকা। আর বর্তমান মোংলা থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যরা সাবেক এ চেয়ারম্যানের পক্ষ নেয়ার কারনে সুন্দরবন ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত মারামারী সংঘর্ষ লেগেই রয়েছে। এব্যাপারে আমার লোকজন কোন ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন কর্ণপাত না করে উল্টো আমাদের লোকজনকে হয়রানী করার অভিযোগ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদার।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম জানান, আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি রজায় রাখতে পুলিশ সব সময় সচেষ্ট রয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনার্থক। সুন্দরবন ইউনিয়নের মারামারীর ঘটনা নিয়ে থানায় মামলা হওয়ার পর ৩জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা সহ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, এর সাথে মুল যারা জড়িত তাদের চিহ্ণিত করে দ্রুত গ্রেফতারের অভিযান চলছে বলেও জানায় থানার এ কর্মকর্তা। বিগত ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই সুন্দরবন ইউনিয়নে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিবদমান এই দুই গ্রæপের মধ্যে লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, হামলা, মারপিটের ঘটনায় দুই ডজনেরও বেশী অভিযোগ ও মামলার ঘটনা ঘটছে এ ইউনিয়নে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here