একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না সেই বাস্তবতার মুখোমুখি চৌগাছার বর্গাচাষি অসহায় নাজিম উদ্দিন

0
256

এম হাসান মাহমুদ চৌগাছা (যশোর) ॥ কথায় আছে একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না সেই বাস্তবতার মুখোমুখি যশোরের চৌগাছার অসহায় এক পিতা। আদরের দুই ছেলে,বড় ছেলে নাসির উদ্দিন শারীরীক প্রতিবন্ধি, বিএ পাশ করে চা বিক্রি করে আর ছোট ছেলে উসমান গনি বানিজ্য বিভাগে অনার্স পড়া অবস্থায় অভাবের কারনে আর পড়তে পারেনি, পানির লাইনের মিস্ত্রির কাজ শুরু করে। কিন্তু সড়ক দূর্ঘটনায় তার একটি পা শরীর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। দুই সন্তানকে নিয়ে আকাশসম স্বপ্ন ছিল পিতার কিন্তু সব কিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে।
পৌরসভার জিওয়লগাড়ী মহল্লার বর্গাচাষি নাজিম উদ্দিন। পরের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে চলে সংসার। দুই ছেলে আর দুই মেয়ে সন্তানের পিতা নাজিম উদ্দিন। অভাব অনাটনের সংসার হলেও ছেলে দুটিকে পড়ালেখা করাতে ভুল করেনি। বড় ছেলে নাসির উদ্দিন ১ বছর ৩ মাস বয়সে পোলিও’তে আক্রান্ত হয়ে ডান হাত অকেজো হয়ে যায়। তারপরও হাল ছাড়েনি, চৌগাছার এবিসিডি ডিগ্রী কলেজ হতে ২০১১ সালে বিএ পাশ করে সে। বেশ কয়েক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করে কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণকে ধরতে ব্যার্থ হয়ে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কে দামোদার বটতলায় ভাড়া দোকানে এখন চা বিক্রি করে। ছোট ছেলে উসমান গনি বানিজ্য বিভাগে বিএ অনার্স পড়া অবস্থায় অভাবের সংসারে পিতার কষ্ট লাঘবে পড়া বাদ দিয়ে পানির লাইনের মিস্ত্রির কাজ শুরু করে। দুই ছেলে আর পিতার রোজগারে ভালই চলছিল সংসার। কিন্তু একটি দূর্ঘটনা তাদের সব কিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে জিওয়লগাড়ি গ্রামে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়, কৃষক নাজিম উদ্দিন বাড়ির উঠানে পাট শুকানোর কাজে ব্যস্ত। এসময় কথা হয় অসহায় এই পিতার সাথে। তিনি বলেন, বড় ছেলে নাসির উদ্দিন শারীরীক প্রতিবন্ধি হলেও বেশ মেধাবী কিন্তু অভাব নামক দানব তাকে আর সামনে যেতে দেইনি। বিএ পাশ করলেও পাইনি কোন চাকরি। এখন চা বিক্রি করে। ছোট ছেলে উসমান গনির কথা বলতে যেয়ে কষ্টে কোঁদে উঠলেন বৃদ্ধ পিতা। নাজিম উদ্দিন জানান, অভাবের কারনে অনার্স পড়া অবস্থায় সে পড়া বাদ দিয়ে কর্মে নেমে পড়ে। পানির লাইনের মিস্ত্রির কাজ করে ভাল রোজগার করতে থাকে। গত ঈদুল আযহার আগের দিন দামোদার বটতলায় তার বহনকারী মটরসাইকেলের পিছন দিক হতে যাত্রীবাহি বাসে ধাক্কা দেয়। মারাত্মক আহত হয় উসমান গনি। চৌগাছা, যশোর সর্বশেষ ঢাকা পঙ্গুতে তাকে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ডাক্তার বাবুরা তার ডান পা শরীর থেকে কেটে ফেলে। বর্তমানে সে বাড়িতে আছে, এখনও সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেনি।
নাজিম উদ্দিনের বড় ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, সব পিতারই স্বপ্ন থাকে সন্তান বড় হয়ে পিতার কষ্ট লাঘব করবে, আমাদেরও সেই স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আমরা দুই ভাই পিতার কষ্টকে লাঘব তো দুরের কথা, বর্তমানে যেন বোঝা হয়ে উঠেছি। বিএ পাশ করেছি, চেষ্টার কোন কমতি ছিলনা, কিন্তু কোন চাকরি পাইনি। চা বিক্রি করে আর দশজনের মত বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। সড়ক দূর্ঘটনায় ছোট ভাইয়ের একটি পা কেটে ফেলত হয়েয়ে, এশনও সে সুস্থ্য হতে পারেনি। এপর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। আমাদেরকে নিয়ে বৃদ্ধ পিতা অনেক কষ্টে আছেন। সব কিছু বুঝি কিন্তু কিছুই করতে পারিনা। সরকারী কোন সহযোগীতা কিংবা সহজ শর্তে যদি ঋণ পেতাম তাহলে ব্যবসা থেকেই হয়ত বৃদ্ধ পিতা মাতা ও পঙ্গু ভাইকে দেখা শুনা করতে পারতাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here