মহেশপুর(ঝিনাইদহ)অফিস ঃ চুরি করা টাকা দিয়েই কেয়ারটেকার দেলোয়ার হোসেনের আলিশান বাড়ি করার অভিযোগ। হাতেনাতে ধরা খেয়ে এখন মালিকপক্ষকে হয়রানি করছে কেয়ারটেকার। চুরির মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে মালিকের নামে করেছেন নারী নির্যাতন মামলা। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, মহেশপুর উপজেলার ৬নং নেপা ইউনিয়নের মাইলবাড়িয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামানের পুত্র দেলোয়ার হোসেন(২৫) যশোর জেলা শহরের কসবা এলাকার মৃত রবিউল হোসেনের পুত্র নাজমুল হাসান খসরুর বাসায় ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিল। বিভিন্ন সময় নাজমুল হাসান খসরুর বাড়ি হতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা একেরপর এক চুরি হলেও কেয়ারটেকার দেলোয়ার অত্যধিক বিশ্বস্থ হওয়ায় তার দিকে কেউ সন্দেহের নজর দেননি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সূ-চতুর দেলোয়ার মালিকের টাকা চুরি করে নিজ গ্রামে জমি কিনে আলিশান বাড়ি তৈরী করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের আগস্ট মাসে আলমারি থেকে ৪৩ হাজার টাকা চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে পূর্বের সকল টাকা গহনা নেওয়ার কথা স্বীকার করে।
এ বিষয়ে নাজমুল হোসেন খসরু বাদি হয়ে যশোর কতোয়ালী থানায় দেলোয়ারের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। দেলোয়ার ওই মামলায় আটক হয়ে প্রায় একমাস পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে একটি নারী নির্যাতন মামলা করেন। যা তদন্তাধীন আছে।
এ বিষয়ে সরেজমিনে গেলে দেখা যায় ১১ শতক জমির উপর ২০ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে দেলোয়ারের আলিশান বাড়ি রয়েছে। ঘরে রয়েছে দামিদামি ফার্ণিচার। পাশেই রয়েছে তাদের আর একটি বাড়ি। বাড়িতে গেলে দেলোয়ারের মা প্রথমেই বাড়ির ছবি তুলতে নিষেধ করেন। বাড়ি করার বিষয়ে দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে চলতি বছরে ৩টি এনজিও’র কাছ থেকে ২ লাখ টাকার ঋণ নেওয়ার হিসাব দেখায়। কিন্তু বাড়ি তৈরী হয়েছে আরো ৩/৪ বছর আগে। বাড়ি রং করেছে ২০২১ সালে।
স্থানীয় সাবেক মেম্বার মহিউদ্দিন বলেন দেলোয়ার যে বাড়ি তৈরী করেছে তা বৈধ পথে এই ব্যয়বহুল বাড়ি করা সম্ভব নয়।
এলাকার মাতব্বর আফসার আলী বলেন দেলোয়ারদের কোন জায়গা জমি নেই কিন্তু এই ব্যয়বহুল বাড়ি কিভাবে করলো আমাদের জানা নেই। প্রতিবেশী নারীরা জানান এতো টাকা দেলোয়ার কোথায় পেল তাদের সন্দেহ হয়। তারা মনে করছে যশোর যেখানে ছিল সেখান থেকে এই টাকা চুরি করে বাড়ি তৈরী করেছে। যশোরের মহন চাকলাদার বলেন তার বোন-ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে টাকা চুরি করে দেলোয়ার আলিশান বাড়ি তৈরী করেছে।















