সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাপ্তাহিক ছুটিতে দুই কন্যা শিশুকে দেখতে বাড়িতে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা নওশের আলী রাশেদ। ঢাকায় ফিরে যাবার সময় মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মাসেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে বাস উল্টে প্রান হারান তিনি। নওশের আলী রাশেদ (৪০) সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নের আমোদ আলীর ছেলে। তিনি ঢাকার মতিঝিল শাখার ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত নওশের আলী রাশেদের সাফা (৭) ও সারা (৯) নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরার সখীপুরে নওশের আলী রাশেদের মরদেহ এসে পৌছায়। এসময় তার স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বেলা দেড়টায় তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতের স্ত্রী শাহানাজ ইয়াসমিন সাথী জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটিতে তিনি ৩ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার সখীপুরে এসেছিলেন। ছুটি শেষে তিনি ব্যক্তিগত কাজে খুলনায় যান। কাজ শেষে রোববার (১৯ মার্চ) খুলনার সোনাডাঙা থেকে ইমাদ পরিবহনের একটি বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে শিবচরে বাস উল্টে রাশেদ মারা যান।
নওশের আলী রাশেদের স্বজন শামস্ জেবিন বলেন, অত্যন্ত আদরের দুই কন্যাকে দেখতে প্রতি সপ্তাহে তিনি ছুটিতে বাড়ি আসতেন। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই। তার পরিবার এবং সখীপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৯ মার্চ) মাদারীপুরের শিবচরে কুতুবপুর এলাকায় পদ্মাসেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে ইমাদ পরিবহনের বাস উল্টে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিবুল ইসলাম। এদিকে এ ঘটনায় ইমাদ পরিবহনকে দায়ী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট জয়ন্ত সরকার।















