নানা গুন সমৃদ্ধ ফল ড্রাগন মনিরামপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ড্রাগন চাষ

0
323

মোঃ রাহাত আলী,মনিরামপুর (যশোর)ঃ যশোরের মনিরামপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ড্রাগন চাষ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় অন্ততঃ ৮ হেক্টর জমিতে বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হয়েছে।
ড্রাগন ফল মূলতঃ আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। এই গাছের কোন পাতা নেই। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারনত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বারি) কতৃক উদ্ভাবিত ড্রগন ফলের নতুন জাতটি হলো বারি ড্রাগন ফল-১ যা দণি -পূর্ব এশিয়াতে জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপী রঙের, লাল ও সাদা এবং রসালো প্রকৃতির । ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম । একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। ড্রাগন ফল সাধারণত তিন প্রজাতির হয়ে থাকে- লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া, কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। হলুদ রঙের ড্রাগন ফল। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত জাতগুলো হলো-বারি ড্রাগন ফল-১, বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ,বাউ ড্রাগন ফল-২ ( লাল ), বাউ ড্রাগন ফল-৩। ড্রাগন ফলের কাটিং থেকে চারা রোপনের পর ১ থেকে ১.৫ বছর বয়সের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। ফল যখন সম্পূর্ণ লাল রঙ ধারণ করে তখন সংগ্রহ করতে হবে। গাছে ফুল ফোঁটার মাত্র ৩৫-৪০ দিনের মধ্যেই ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়। বছরে ৫-৬টি পর্যায়ে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রথমত জুন-অক্টোবর, দ্বিতীয় ডিসেম্বর-জানুয়ারি। উপজেলার পলাশী গ্রামের ড্রাগন চাষি প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে বছর পাঁেচক আগে ৫শতাংশ জমিতে ২০হাজার টাকা খরচ করে ড্রাগনের আবাদ করেছিলাম।বছর দুয়েক পর থেকে বছওে অন্ততঃ ৫০হাজার টাকা কওে পাচ্ছি,যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ কয়েকগুন। উপসহকারী কৃষি অফিসার অচিন্ত্য কুমার ভৌমিক বলেন, ড্রাগন চাষে বেকার যুবকেরা বেশী আগ্রহী হয়ে উঠছেন।মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অজয় কুমার বিশ্বাস বলেন,ড্রাগন ফল ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত।ফলে ফিবার, ফ্যাট, ক্যারোটিণ, প্রচুর ফসফরাস, এসকরবিক এসিড, প্রোটিন ,ক্যালসিয়াম, আয়রন রয়েছে। ড্রাগন ফল ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় চোখ ভালো রাখে। আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় হজমে সহায়তা করে। এছাড়া আঁশ শরীরের চর্বি কমায়।. এই ফলে বিদ্যমান প্রোটিন শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কাজে সহায়তা করে। এর ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও দাঁত মজবুত রাখে। ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ায় এবং ত্বক ,দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার বলেন,অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কম,ফলন বেশি ,চড়া দাম পাওয়ায় চাষিরা বানিজ্যিকভিত্তিতে ড্রাগন চাষ গ্রহন করেছেন।এছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলাব্যাপী মাঠ দিবসের মাধ্যমে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধকরন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here