শ্যামনগর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ভুরুলিয়া ইউনিয়নে সরকারি খাস সম্পত্তিতে বেড়ে উঠা লক্ষাধিক টাকার মূল্যে মেহগনি গাছ কর্তন করেছে প্রভাবশালীরা। ৩ জন নায়েবের নিষেজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে গাছটি প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মুরাদ গাইন গং এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুরুলিয়া মৌজার বি,এস – ০১ খতিয়ানে ১২০ দাগে ৩৯ শতক খাস জমির উপর বহু পূর্ব হতে সরকারি ভাবে মেহগনি গাছ, বাঁশ ঝাড় এবং বিভিন্ন প্রকার বনজ ও ফলজ গাছ লাগানো হয়। বর্তমান গাছ গুলোর মূল্য প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা। এ জায়গায় বেড়ে ওঠা সর্ববৃহৎ মেহগনি গাছটি বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সর্ববৃহৎ মেহগনি এ গাছটি লাভ ও লোভের লালসায় অবৈধভাবে সৈরকারি মূল্যবান গাছটি ভুরুলিয়া গ্রামের মুরাদ আলী গাইন, মতিয়ার গাইন, মিজানুর গাইন ও মোয়াক্ষীর গাইন গাছটি কর্তন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা ভুরুলিয়ার কাশিমপুর গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে গাছটি কর্তন করে নেন। পরবর্তীতে নায়ের গগন চন্দ্র মন্ডলের জব্দকৃত সরকারি মেহগনি গাছের গুড়ি বা কাঠ গুলো মুরাদ গাইন গং প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় করার অভিযোগ অদৃশ্য শক্তিতে নায়ের গগন চন্দ্র মন্ডলের নিষেজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি খাস জায়গার গাছ আত্মসাৎ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভুরুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গান চদমন্ডল ও পিয়ন আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কর্তনের সত্যতা পান এবং গাছের গুড়ি গুলো জব্দ করে সেখানে রেখে আসেন। গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে তিনি ঘটনা স্থান ত্যাগ করে চলে আসেন।
ইতিপূর্বে সরকারি এ সম্পতিতে জনসাধারনের পানি পথ সংস্কার, সরকারি মূল্যবান গাছ রক্ষা, বাঁশ ঝাড় রক্ষা ও খাস জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এলাকাবাসী ভুরুলিয়া ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদনটির কার্য্যকারিতা দ্রুত পরিলক্ষিত অদৃশ্যশক্তিতে হচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবী ছিল – ভুরুলিয়া হাইস্কুল, সাইক্লোন সেল্টার, পোষ্ট অফিস, মসজিদ সহ স্থানীয় জনবসতির পানি নিষ্কাশনের এক মাত্র পথ। এ পথ সংস্কারে মুরাদ গাইন গং বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি ৩৯ শতক খাস জমি মুরাদ গাইন গং অবৈধভাবে দখল করার পাঁয়তারা করছে মর্মে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তৎকালিন নায়ের নন্দলাল সরেজমিনে তদন্ত করে পানি নিষ্কাষনের পথ সংস্কারের আশ্বাস দেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে বেড়ে উঠা ফলজ ও বনজ কোন প্রকার গাছ কর্তন করতে মুরাদ গাইন গং দের নিষেজ্ঞাও প্রদান করেছিলেন। কিন্তু মুরাদ গাইন গং গাছ কর্তন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মূল্যবান বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগে তৎকালিন নায়েব আব্দুল্যাহ আল মামুন সরকারি এ জায়গায় বেড়ে উঠা গাছ কর্তন নিষেজ্ঞা প্রদান করেন মুরাদ গাইন গং এর বিরুদ্ধে। খাস জমি ও মুরাদ গাইনের ভিটা পাশাপাশি হওয়ায় মুরাদ গাইন গং অবৈধভাবে খাস জমি দখল করে তার ভিটাব সাথে একাকার করতে পাঁয়তারা করছে। সম্প্রতী মূল্যবান মেহগনি গাছটি কর্তন করে আত্মসাৎ ঘটনা ফাঁস হলে কর্তনকৃত গাছটির গোড়ার উপরের অংশে মাটির প্রলেপ দিয়ে তার চতুর্দিকে কলা গাছ লাগানো হয়েছে।
যথাযথ তদন্ত করা হলে সত্যতা প্রকাশ পাবে।
ভুরুলিয়ার নায়ের গগন চন্দ্র মন্ডল বলেন,মূল্যবান মেহগনি গাছটি কর্তন করে আত্মসাৎ করায় আইনী পদক্ষেপ নিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মুরাদ গাইনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও না পাওয়ায় তার ভাষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩ জন সরকারি কর্মকর্তা (নায়েব) কে অবজ্ঞা করায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সরকারী গাছ কর্তনকারীদের বা আত্মসাৎ কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, সরকারী গাছ রক্ষা ও খাস জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।















