রায়হান হোসেন, চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় সরকারি মর্জাদ বাওড়ের জমি দখল করে চাষাবাদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আনুমানিক ৫০ বিঘা সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘ দিন ধরে চাষ করছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে স্বরেজমিনে গিয়ে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাতিবিলা ইউনিয়নের তেঘরী গ্রামের পদ্মবিল সংলগ্ন মর্জাদ বাওড়ের সরকারী জমিতে ৭টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নং পুকুরে শষ্য ও ৫ ও ৬ নং পুকুরে গম চাষ হচ্ছে।
স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, ৫ বিঘা জমিবিশিষ্ট ১ নং পুকুরে চাষ করছেন মুক্তদহ গ্রামের ফুলু ঠাকুর, সাড়ে ৫বিঘার ২ নং পুকুরে তেঘরী গ্রামের জাহাঙ্গীর ও একই এলাকার ইসমাইল, ৬ বিঘার ৩ নং পুকুরে পাতিবিলা গ্রামের টিটো, ৮ বিঘার ৫ নং পুকুরে মুক্তদাহ গ্রামের ইলাহী খন্দকার ও ইসাপুর গ্রামের আতিয়ার এবং ৯ বিঘার ৬ নং পুকুরে পাচনামনা গ্রামের নূর মোহাম্মদ ও বেলেমাঠ গ্রামের সোহাগ হোসেন এই চাষাবাদ করছেন। সম্প্রতি ট্রাক্টর দিয়ে গম চাষের জন্য ৬ নং পুকুরের পাড় কেটে ফেলেছে দখলদাররা। এছাড়াও প্রতিটি পুকুরের চারপাশে কলার চাষ করে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছেন দখলদাররা।
এর আগে পাতিবিলা ইউনিয়নের তেঘরী গ্রামের ১০৯ একর ও স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বেলনবিল বাঁওড়ের দুই পাশের ৭৩ একর খাস জমি দখলমুক্ত করে উপজেলা প্রশাসন।
স্বরেজমিনে যাওয়ার পর দেখা মেলে ২ নং পুকুর চাষকারী জাহাঙ্গীরের চাচা ঈসমাইল হোসেনের সাথে। এসময় সরকারি জমি দখল করে শষ্য চাষের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মর্জাদ বাওড় ম্যানেজারের সাথে কথা বলেই আমরা চাষ করি।” উপজেলা প্রশাসন ছাড়া ম্যানেজার অনুমতি দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি এখন দায়িত্বে আছেন। আর এখন তো মাছ চাষ হচ্ছেনা, তাই আমরা শষ্য চাষ করি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মর্জাদ বাওড় ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।















