বাগেরহাটে পরকিয়া সন্দেহে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করায় স্বামী-পিবিআই

0
238

মেহেদী হাসান বাগেরহাট : বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর মা ও ৫ বছর বয়সী শিশু মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকিয়া সন্দেহ ও পারিবারিক টানা পোড়েনের কারণে নিজেই স্ত্রীকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই বাগেরহাটের কাছে এমন তথ্য দিয়েছেন ওই নারীর স্বামী আবু জাফর হাওলাদার। পিবিআই, বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গেল ১১ ফেব্র“য়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মা-মেয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হত্যার স্বীকার পাপিয়ার স্বামী মোঃ আবু জাফর হাওলাদার (৩৯), ভাসুর আবু তালেব হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী আসমা বেগম (৪৫) এবং আরেক ভাশুর মোঃ আবু বক্কার হাওলাদার (৫০)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতিতে ১৫ ফেব্র“য়ারি আসামিদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার স্বীকার আবু জাফর হাওলাদার জানান, পরকিয়া সন্দেহের জেরে ভাড়াটিয়া খুনি দ্বারা নিজের স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছেন আবু জাফর হাওলাদার। আবু জাফর হাওলাদার আরও জানান, আবু জাফরের স্বীকারোক্তি মতে, আবু জাফর হাওলাদার লোক দিয়ে তার স্ত্রীকে মেরেছে। তবে তার মেয়েকে মারার কথা ছিলো না। তার বউ সব সময় মোবাইলে কার সাথে কথা বলে বিষয়টি জানতে চাইলে তার বউ ভিকটিম পাপিয়া তাকে জুতা দিয়ে প্রহার করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। স্ত্রী পাপিয়া এর আগেও স্বামীকে ঝাড়–ু দিয়ে প্রহার করেছিল। এসব বিষয় নিয়ে বউ এর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল আবু জাফর হাওলাদার। পরিবারিক এসব জটিলতার কথা হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া মনির হাওলাদারকে জানাতো আবু জাফরের স্ত্রী পাপিয়া বেগম। এই সুযোগে আবু জাফরের কাছে মনির জানতে চায়, “কী জাফর ভাই, তোমাকে নাকি তোমার বউ জুতা দিয়ে মেরেছিল”। তখন মনির প্রস্তাব দেয় তাকে ১ লক্ষ টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। তখন আবু জাফর বলে ‘চিন্তা করে দেখি’। পরে আবু জাফর তার ভাই আবু তালেবের মাধ্যমে মনিরকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। মনির টাকা পেয়ে আবু জাফরকে তার সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে, কাজ হলে বাড়ির লোকজন তাকে জানাবে বলে জানায়।কথা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট আবু জাফরের স্ত্রী পাপিয়া ও মেয়ে সওদা জেনিকে কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার (১৮ ফেব্র“য়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আছাদুল ইসলামের আদালতে একই ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আবু জাফর হাওলাদার। পিবিআই, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু জাফর ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে নিজ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। আমরা আসামীদের আদালতে সোপর্দ করেছি। পরবর্তী ব্যবস্থা আইন অনুযায়ী হবে। উলে­খ, ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়–তে পাপিয়া আক্তার (৩৮) ও তার মেয়ে ছাওদা জেনি (০৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার ও তার লোকজন। ১২ আগস্ট হত্যার শিকার পাপিয়ার ভাই আল আমিন খলিফা বাদী হয়ে হত্যার শিকার পাপিয়ার স্বামী আবু জাফরসহ ৭ জনের নাম উলে­খসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামিকে করে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই হত্যা মামলায় মনির হাওলাদার সহ তার তিন ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পিবিআই বাগেরহাট মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here