রাহাত আলী,মনিরামপুর(যশোরঃ) যশোরের মনিরামপুরের বেকার যুবক সাইফুল ইসলাম মনন,মেধা ও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়ে নিজে যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি তার দ্বারা এলাকার বেকার যুবক ও যুব মহিলাসহ অসহায় নারীরা আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন। সাইফুলের দেখাদেখি অনেক বেকার যুবক তাকে অনুসরণ করে আত্ম-কর্মসংস্থানের দিকে এগিয়ে আসছেন।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম। সাইফুলের সফলতা গল্পটা বেশ চমকের। সাইফুল মাদ্রাসায় পড়ালেখার সময় ২০১১ সালের দিকে ওয়াজেদ আলী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাঁস ও কবুতর পালন ও তার সফলতার গল্প শুনে সাইফুল মনস্থির করলেন তিনিও হাঁস ও কবুতর পালনের কাজ শুরু করবেন। যেই কথা সেই কাজ। মায়ের জমানো টাকা ধার নিয়ে সেই ওয়াজেদ আলীর পরামর্শ নিয়ে খুলনা সরকারি প্রাণি সম্পদ খামার থেকে ৩৫ টাকা হারে ক্যাম্বেল রানার জাতের ১২০ পিচ হাঁসের বাচ্চা কিনে হাঁস পালন শুরু করেন। ওয়াজেদ আলীর কথায় সত্য হলো। লাভবান হলেন সাইফুল।খামারে হাঁসের সাথে যোগ হলো কবুতর। খামারের নাম দিলেন মায়ের নামের খাদিজা হাঁস ও কবুতর খামার।এতেও সফলতার মুখ দেখলেন। এবার যোগ হলো পোল্ট্রী মুরগি পালন।এরই মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য চাকুরী নামের সোনার হরিনের দিকে না দৌড়িয়ে পুরোপুরি নিজেকে আত্ম নিয়োগ করলেন। বাড়ির পাশেই মুক্তেশ্বরী নদী।সেই নদীর পাশেই গড়ে তোলেন কৃষি খামার। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে স্বল্প কিছু ঋণ নিয়ে মুরগী ও গবাদি পশুর খামার করে তাতে তুললেন মুরগী ও গবাদি গবাদি পশু । পাশাপাশি শুরু করলেন নিজের পুকুরে মাছ চাষ।গড়ে তুললেন কৃষি,প্রাণি ও মৎস্য সমন্বিত খামার।সাথে এলাকার মানুষ বিশেষ করে যুবক ও যুব মহিলারা সাইফুলের কাছ থেকে নেন পরামর্শ,অন্যদিকে অসহায় বিধবা,স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা সাইফুলের কাছ থেকে হাঁস ও পোলট্রির বাচ্চা নিয়ে পালন করে সংসারে বাড়তি আয় করছেন, আবার কেউবা সংসার চালাচ্ছেন।সাইফুলের মাথায় এবার আসলো জুতার কারখানা করার।চট্টগ্রাম, খুলনা ও নওয়াপাড়া থেকে কারিগর এনে স্মার্ট সু নামের জুতার কারখানা দিলেন। কিন্তু এবার বিধিবাম জুতার কারখানা করে বাজারজাত করতে গিয়ে বাকী দিয়েই মার খেয়ে গেলেন জুতার ব্যবসায়। সাইফুল ইসলাম সামাজিক কাজেও নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।কমিউনিটি কিনিক, মাদ্রাসায় জমিদান,অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নিত্য রুটিন মাফিক কাজ।
সাইফুল বলেন,মায়ের জমানো টাকা ধার নিয়ে হাাঁস পালনের মধ্য দিয়ে যে খামার শুরু করেছিলাম।কঠোর শ্রম ও মেধা দিয়ে আজ তা কৃষি,প্রাণি ও মৎস্য সমন্বিত খামারে পরিনত করতে পেরেছি।বেকাররত্ব দূর করতে সহজ শর্তে স্বল্প সূদে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করলে অনেক বেকার সমস্যা দূর হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ^াস। সাইফুলের সমন্বিত খামারের ম্যানেজার তৈমুর রহমান বওেলন,সাইফুল ভাইয়ের খামারের দায়িত্ব পালন কওে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছি।স্থানীয় যুবক রনি হোসেন বলেন, সাইফুল ভাইয়ের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কর্মসংস্থানের পথ খুজেঁ পেয়েছি। বিধাব মেরী খাতুন বলেন,সাইফুল ভাইয়ের কাছ থেকে হাাঁস-মুরগীর বাচ্চা নিয়ে পালন করে সংসার চালায়।গৃহবধূ যমুনা রাণী বলেন, সাইফুল ভাইয়ের কাছ থেকে হাাঁস-মুরগীর বাচ্চা নিয়ে পালন করে সংসারে বাড়তি আয় করে স্বামীর সংসারে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ যোগায়।মনিরামপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, সাইফুল পরিশ্রমী যুবক।তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন ।তার দেখাদেখি অনেক যুব নারী ও পুরুষ স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহনাজ বলেন,সাইফুল একজন তরুন উদ্যোক্তা ।তিনি কৃষি ,প্রাণি ও মৎস্য সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন।তা থেকে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়।মনিরামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার আব্দুল্লাহ আবু সাইদ রেজা বলেন,সাইফুল একজন সমন্বিত খামারী।তিনি মৎস্য, কৃষি ও প্রাণি ও সমন্বিত খামারের মাধ্যমে নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।তেমনি অন্যদেরকেও কর্মসংস্থানের সৃষ্টিতে সহযোগিতা করছেন। মনিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবক সাইফুল একজন উদ্যোক্তা।সাইফুল এলাকার অনেক নারী ও পুরুষকে স্বাবলম্বী করতে সহযোগিতা করছে।শিক্ষিত বেকার যুবকের কাছে সাইফুল একজন দৃষ্টান্ত।















