রানার প্রতিবেদক : মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের
মধ্যরাতে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বর্বর উন্মাদনায় বাঙালি
জাতির জীবনে নেমে এসেছিল মানব ইতিহাসের এক বিরল
বিভীষিকাময় ভয়াল মুহূর্ত। কারণ গণহত্যার নীলনকশা ‘অপারেশন
সার্চ লাইট’ নামে এদিন রাতে পাকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনী
নির্বিচারে হত্যা করে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালিকে। তাদের হাত
থেকে রক্ষা পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে
পথের শিশুরাও।
অতর্কিতে হামলা করে তারা নিহত করেছিল তৎকালীন পূর্ব
পাকিস্তানের অগণিত নিরীহ বাঙালিকে। রচিত হয়েছিল এক
কালো অধ্যায়। তাই অন্য সব রাত থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে
এ এক বিভীষিকাময় স্মরণীয় রাত।
এ দিনকে স্মরণ করে সন্ধ্যায় যশোরে হয়েছে আলোর মিছিল।
একইসাথে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ১১টা মিনিট
থেকে ১১টা ১মিনিট পর্যন্ত ব্লাক আউট করে ভয়াল ২৫ মার্চ
স্মরণ করা হয়। মিছিল থেকে একাত্তরের ভয়াল কালরাত ২৫ মার্চকে
আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
এদিন সন্ধ্যার পর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন,
পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে শহিদ হওয়া বাঙালিদের প্রতি হাজারো
মোমবাতি প্রজ্বালন ও মশাল মিছিল করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে সন্ধ্যায়
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের
সহযোগিতায় আলোর মিছিল চাঁচড়া রায়পাড়াস্থ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিসৌধে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। উপস্থিত সকলে নীরবে
দাঁড়িয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান জানান। শ্রদ্ধা জানান সংসদ
সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল
হাসান মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা
সংসদ কমান্ড ইউনিট যশোরের সাবেক কমান্ডার এএইচএম
মুযহারুল ইসলাম মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল
ইসলাম মিলন, শহিদ কর্নেল জামিল স্মৃতি সংসদের সভাপতি
বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, একাত্তরের ঘাতক দালালনির্মূল কমিটি যশোরের সভাপতি হারুণ অর রশিদ, যশোর
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনোতোষ বসু, জেলা শিল্পকলা
একাডেমি পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান
বুলু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, জেলা
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার
আলম খান দুলুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এরআগে সন্ধ্যায় টাউনহলের স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চে পরিবেশিত হয়
‘কবিতায় ৭১’ শীর্ষক আবৃত্তি অনুষ্ঠান।
এছাড়া সন্ধ্যায় একাত্তরের ২৫ মার্চে শহীদ স্মরণে স্বাধীনভাবে
ঐক্যের বন্ধনে যশোরে ব্যতিক্রমী আয়োজেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে
‘লালযাত্রা’। থিয়েটার ক্যানভাস যশোরের উদ্যোগে ঐতিহাসিক
টাউন হল ময়দান থেকে কালো কাপড় পরিহিত যুবারা হাতে লম্বা লাল
কাপড় নিয়ে রাস্তায় লাল গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে মৌনভাবে
হেঁটে লালযাত্রা শুরু করে। ‘লালযাত্রা’ শহর প্রদক্ষিণ করে চাঁচড়া
রায়পাড়া বধ্যভূমি এসে একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াবহতার দৃশ্য
ফুটিয়ে তুলে (ইমেজ) এ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। এ কর্মসূচির
নেতৃত্ব দেন থিয়েটার ক্যানভাস যশোরের প্রধান সম্পাদক
কামরুল হাসান রিপন।















