সীমান্তের চোরাপকেট দিয়ে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় চিনি ঝিকরগাছার নিভৃত পল্লীতে ভেজাল গুড়- পাটালির কারখানা 

0
158
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ  : ঝিকরগাছা যশোর সীমান্তের চোরাপকেট দিয়ে পাচার হয়ে আসা ভারতীয় চিনির মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড় পাটালি। যশোরের ঝিকরগাছার নিভৃত পল্লী দেউলী গ্রামে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় পাটালির  তৈরির এই কারখানা। রমজানের শুরু থেকে  ঝিকরগাছা বাজারে পর্যাপ্ত গুড় পাটালির আমদানি কারনে কোনটা ভেজাল আর কোনটা আসল বুঝা মুশকিল। এ অবস্থায় এত গুড়ের আমদানির উৎস খুঁজতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হন। এক পর্যায়ে তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ে এই ভেজাল গুড় পাটালি তৈরির কারখানা। জানা গেল এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চিনি মিশ্রিত আখের গুড় পাটালি তৈরি হচ্ছে। এই গুড় পাঠালি সাতক্ষীরা সদর, ঝাউডাঙ্গা, কলারোয়া, বাগআচড়া,যশোর সদর নড়াইল  জেলা সহ তিন জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এই ভেজাল গুড় পাটালি সরবরাহ করা হচ্ছে।এই গুড় পাটালি দেখতে খুবই চমৎকার হলেও এটা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ঝুকিপূর্ণ।অথচ বিভিন্ন হাট বাজার থেকে রোজাদার সহ ভোক্তা – সাধারণ হর – হামেশা এই গুড় পাটালি কিনে প্রকারান্তে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা সদর থেকে আনুমানিক ১৫/১৬ কিলোমিটার  সর্ব দক্ষিণে শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম ও নির্জন এলাকা হাওয়াই এখানে গড়ে তোলা হয়েছে এই ভেজাল গুড় পাটালির কারখানা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে আসলেও প্রতারকচক্র থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এলাকার সাধারণ জনগণ ও জানেনা এখানে এমন একটি ভেজাল গুড় পাটালির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।খোঁজখবর নিয়ে জানাগেল কিছুদিন আগেও ঝিকরগাছা দেউলী গ্রামের আব্দুস সালাম পার্শ্ববর্তী শার্শা উপজেলার বাগআচড়া বাজারে ফুটপাতে ভাজা বিক্রয় করতেন। এলাকাবাসীর তথ্যমতে,ভেজাল কারবারি করেই দুই ভাই এখন কোটিপতি।  অনুসন্ধানে আরোও জানা গেল সিমান্তে  চোরাই পথে আসা ভারতীয়  কমমূল্যের চিনি মিশ্রিত মিছরী তৈরি করে ইতোমধ্যে দুই ভাই কোটিপতি বনে গেছেন। মারিয়া চানাচুর ভাজা ফ্যাক্টরির আড়ালে দুই ভাই  গড়ে তুলেছেন ভেজাল গুড় পাটালি তৈরির এক মহোৎসব। সরোজমিন কারখানায় গেলে দেখা যায় বিশাল প্রাচীর বেষ্টিত দোতলা বাড়ির ভিতরে ১০-১২ জন শ্রমিক ভেজাল গুড় পাটালি তৈরির কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। তাদের কথা বলার যেন এক দণ্ড ফুসরত নেই। যে যার মত কর্মে ব্যস্ত। কেউবা দেশী আখের নিম্নমানের গুড়ের সাথে  কেমিক্যাল ও রং মিশ্রণে ব্যস্ত। কেউবা চুলাই জ্বালানো কড়াইভর্তি গুড় থেকে পাঠালি তৈরির কাজে ব্যস্ত।  গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে একজন এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চেয়ে সতর্ক করে দিয়ে বললেন “, কাজ দেখছেন দেখেন তবে ছবি তুলবেন না”।  কারখানার মালিক কে জানতে চাইলে তিনি বলেন কারখানার মালিক আমার ভাই আব্দুস সালাম। তার সাক্ষাৎ চাইলে ছোট ভাই আব্দুস সামাদ বলেন তিনি ব্যবসায়িক কাজে বাগআচড়া বাজার আছেন। আখের গুড়ের এত আমদানির উৎস জানতে চাইলে আব্দুস সামাদ দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ নওগাঁ থেকে আমদানিকৃত গুড় জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে বাগআচড়া  বাজার থেকে খরিদ করি। অথচ এই কারখানায় কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে  অকপটে স্বীকার করেন দেশি আখের গুড়ের সাথে ভারতীয় চিনি মিশিয়ে এই গুড় পাটালি তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা ৩০/ ৩৫  কেজি ওজনের টিনজাত নিম্নমানের আখের গুড় ও কম দামের চিনি কারখানায় চুলায়  জ্বালিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব ক্ষতিকর গুড় পাটালি। এই কারখানার  উৎপাদিত গুড় পাটালি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে একাধিক নসিমন বা ডেলিভারি ভ্যান ও ইজিবাইক। পরিবহন কাজে নিয়োজিতদের কয়েকজন এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন কারখানার উৎপাদিত গুড় পাটালি যশোরের বড় বড় পাইকারি দোকানে সরবরাহ করা হয়। পরে সেখান থেকে ওই গুড় পাটালি ভোক্তা – সাধারণ ও প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে যশোরের সীমান্তবর্তী ঝিকরগাছা চৌগাছা ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সরবরাহ করা হয়। এ ব্যাপারে কারখানার মালিক আব্দুস সামাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের এক পর্যায়ে ফোন রিসিভ করে দাবি করেন যথাযথ নিয়ম মেনেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে চানাচুর বাজার ফ্যাক্টরি চালাচ্ছেন।কিন্তু গুড় পাটালি তৈরির ক্ষেত্রে বিএসটিআই সহ যথাযত কর্তৃপক্ষের  অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে,তিনি বলেন গুড় পাটালি তৈরির কোন লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। তাই তিনি এটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। অথচ ঝিকরগাছা সহ বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় তার গুড় পাটালি যথারীতি বাজারজাত করা হয়েছে।এমন প্রশ্নে  তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন এ ধরনের ব্যবসায় বাগআচড়ার মশিয়ার ও আলী আহমেদ জড়িত থাকলেও তাদের ব্যাপারে তো আপনারা কোন কিছুই বলেন না বা পত্রিকায় লেখেন না। বাগআচড়ার জাহাঙ্গীর সে তো গুড়ের সবচেয়ে বড় কারবারি।তার কাছ থেকে আমরা মূলত গুড় পাইকারি কিনি। কিন্তু তার ব্যাপারে তো কোন লেখালেখি করেন না। এদিকে তারা প্রভাবশালীদের বিশেষ আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়াই এলাকাবাসী এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।এ ধরনের ক্ষতিকর স্বাস্থ্যঝুকিপূর্ন  গুড় পাটালি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী সহ ভুক্তভোগী মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here