মনিরুজ্জামান জুলেট,শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উঠিয়ে পার্শ্ববর্তী ফলের গাছ ও ফসলি জমির ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উঠানোর ফলে ফসলি জমি নষ্টের পাশাপাশি মিষ্টি পানির পুকুরগুলো লবণাক্ত হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের চিংড়াখালী এলাকার। এদিকে ধান চাষের স্বার্থে আউট ড্রেন তৈরী করে চিংড়ি চাষের অনুরোধ জানালেও প্রভাবশালী ঘের মালিক তা মনছে না বলেও অভিযোগ। বরং চিংড়ি চাষে বাঁধা সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলে ক্ষতিগ্রস্থ জমি মালিকদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছে। সরেজমিনে দেখা যায় চিংড়াখালী, ভৈরব নগর ও হরিনা গাড়ী সহ ঐ এলাকার মানুষ এই মিষ্টি পানি খাওয়াসহ রান্নার কাজে ব্যবহার করে।
ফসলি জমিতে লবণ পানি তোলার ক্ষেত্রে সরকারি বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও বিত্তবান অসিত কুমার মন্ডল তা মানছে না। এমনকি চিংড়ী চাষের নীতিমালা অনুযায়ী ঘেরে আউট ড্রেনের ব্যবস্থা রাখার বিধান থাকা সত্ত্বেও তিনি তা অগ্রাহ্য করছেন।
স্থানীয় জমি মালিকদের অভিযোগ তারা স্বল্প পরিমান জমির মালিক এবং অসহায় ও দুর্বল। যার কারণে ঘের মালিক অসিত কুমার মন্ডল প্রভাব খাটিয়ে সেখানে চিংড়ী চাষ করতে যেয়ে তাদের মিষ্টি পানির পুকুর ও ফসলি জমিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। এমনকি তিনি ঘের পরিচালনায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে তাদেরকে হয়রানীর চেষ্টা করছেন।
লবণ পানি উত্তোলনের কারণে অসিত কুমার মন্ডলের চিংড়ী ঘেরের পাশে থাকা ওই জমি ধান উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। চিংড়ি ঘেরের লবণ পানি চুঁইয়ে ’পাশে থাকা পুকুর মিষ্টি পানি ও পাশের জমিতে থাকায় সেখানে কৃষি ফসল উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
হাবিবুর রহমান নামের এক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক জানান চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের কারণে
মিষ্টি পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । মৎস্য ঘেরে পানি উত্তোলনের পর তা চুইয়ে যেয়ে জমি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় তিনি ফসলহানীর শিকার হয়েছেন বলেও জানান।
হাবিবুর রহমান জানান , মিষ্টি পানির পুকুর ক্ষতি হওয়ায় ঘের মালিককে এভাবে লবণ পানি ফসলি জমিতে উঠাতে নিষেধ করার পরেও না শুনলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমরা লিখতে অভিযোগ করি।















