শ্যামনগর ব্যুরোঃভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি, জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুখেন্দু মন্ডল। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা এলাকা ১৩৮ ক্যানিং পশ্চিমের অধিবাসী। তার পিতা রাখাল মন্ডল ও মাতা আঙ্গুর বালা। ভারতীয় ভোটার তালিকা অনুযায়ী তার ভোটার নম্বর ৭০৬ এবং নাগরিক পরিচয় নম্বর WB/15/106/540060।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুখেন্দু মন্ডল ২০১৫ সালে বৈধ কিংবা অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় ভুয়া তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, ভোটার তালিকাভুক্ত করার সময় তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যের মাধ্যমে তিনি ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
তবে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত ঠিকানায় সুখেন্দু মন্ডলের কোনো বসতবাড়ি নেই। তার নামে কোনো জমির পর্চা, খতিয়ান বা বিদ্যুৎ বিলও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লিখিত প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন যে, সুখেন্দু মন্ডল নামে কোনো ব্যক্তি ঐ এলাকায় বসবাস করেন না এবং তাকে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে চেনেন না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তির জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি ও সম্পত্তি বিক্রয় করেন। শ্যামনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে দলিল নম্বর ৪৯৭৮/২৫ এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তা ভারতে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে শ্যামনগর থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও জালিয়াতি চক্রের অংশ, যার সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া এনআইডি বাতিল, জাল দলিল জব্দ এবং অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।















