কোমল রাহা , স্টাফ রিপোর্টার,ডুমুরিয়া,খুলনা ঃ আমাদের দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। বাংলাদেশটা ভাটি এলাকার দেশ। এখানে জলের সাথে পলি প্রবাহিত হয়ে উর্বরতা সৃষ্টি হয়। যে পলির উর্বরতায় উৎপাদিত হতো ফসল। গলা ভরা ধান,পুকুর ভরা মাছ । সুজলা,সুফলা,শষ্য-শ্যামলা আমাদের এই নদীমাতৃক সোনার বাংলা । কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে একমাত্র চালকল শিল্পই অন্যতম। ধান উৎপাদন দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই ধানকে ঘিরেই গোটা দেশে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫ হাজার হাসকিং মিল ও চাতাল। হাসকিং মিল ১৯৭৫ সালের দিকে বাংলাদেশে প্রথম ব্যবহৃত হয় । এর আগপর্যন্ত ঢেঁকি দিয়ে চাল প্রস্তুত করা হত। হাসকিং মিলের উৎপাদিত চালের পুষ্টিগুণও ঢেঁকিমত না হলেও অটোরাইস মিলের তুলনায় পুষ্টিগুণ অনেক ভালো। কারণ হাসকিং মিলে ধান ছাঁটাই যে পদ্ধতিতে করা হয়, তাতে চালের গায়ে যে পুষ্টিগুণ থাকে তা বিনষ্ট হয় না। অথচ এখন অটোরাইচ মিলে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজের সাহায্যে যে চাল প্রস্তুত করা হয়, তা দেখতে চকচকে হলেও চালের উপরিভাগের পুষ্টিগুণ শূন্য হয়ে যায়। এক সময় ছোট হাসকিং মিল প্রাণবন্ত ছিল। কিন্তু অটোরাইস মিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাসকিং মিল মালিকদের প্রকৃতিনিরর্ভর হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় । শীত,বর্ষার সময় একটি পাড়ান হতে চাউল তৈরিতে ৫ থকে ১০ দিন সময় লাগে,ফলে চাউলের গুনগত মান খারাপ হয়,অন্য দিকে কমদামে চাউল বিক্রয় করতে হয় । বর্তমানে শ্রমিকদের মাসিক বেতন দিতে হয়,ফলে কাজ না হলেও মালিকের খরচ হতে থাকে,ফলে আথির্ক তির মুখে অনেক মিল মালিক ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন । কেউ কেউ চাতালগুলোতে চালের পরিবর্তে ধানের চিটা থেকে গুড়া তৈরি করছেন। আর শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে বদলেছেন পেশা। হাসকিং মিলগুলোর ব্যবহৃত মান্ধাতার আমলের ‘অ্যাংগেল বার্গ’ হলারের বদলে উন্নত প্রযুক্তির ‘হাস্কার’ সংযোজন করে ‘কালার শর্টার’ (বাছাই) মেশিন স্থাপন করলে এই চালকল দিয়েই সরকারের ও ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল প্রস্তুত করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। সরকার যদি স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে হাসকিং মিলগুলোকে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা হাসকিং চালকল শিল্পকে রা করা সম্ভব হবে। আর বিপুল পরিমাণ শ্রমিককে কাজ হারাতে হবে না। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ হাসকিং মিল চালু থাকলে ধান চাল বেচা-কেনায় প্রতিযোগিতা থাকবে। বাজারে এ ধরনের প্রতিযোগিতা থাকলে কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য একদিকে যেমন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও কমমূল্যে চাল কিনে খেতে পারবেন।প্রকৃত অর্থে ভোক্তার স্বার্থরা করতে হলে হাসকিং চালকলগুলোকে যুগোপযোগী করে আধুনিকায়নের জন্য সংস্কার করতে হবে। যাতে বাজারে ধান-চাল কেনাবেচার েেত্র একটি নীরব প্রতিযোগিতা চালু রাখা যায়। তাহলে একদিকে কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য যেমন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে গুটিকতক স্বয়ংক্রিয় চালকল মালিক চালের বাজারকে ইচ্ছা করলেও একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর চাল সংগ্রহ অভিযানকে সফল করার প্রকৃত কারিগরই হচ্ছে হাসকিং মিল চাতালের মালিকরা। যারা চালের সংকটকালেও সরকারের চাল সংগ্রহ কার্যক্রমকে সফল করে তুলেছে। এ জন্যই গোটা দেশে গড়ে ওঠা প্রায় ২৫ হাজার হাসকিং চালকলকে সরকার আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েরই স্বার্থরা ।সরকারেরও কিছু বৈষম্য রয়েছে। ছোট মিলের জন্য সরকার কম পরিমাণ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। যেন হাসকিং মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারে। সরকারের খাদ্য বিভাগ চাল সংগ্রহের যে নীতিমালা নির্ধারণ করেছে, সে ধরনের চাল একমাত্র অটোমেটিক রাইস মিলেই প্রস্তুত করা সম্ভব। যা হাসকিং মিলে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। অথচ সরকারের নীতিমালায় আছে, চকচকে, মরা ও ভাঙা দানামুক্ত চালই সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু এমন চাল হাসকিং মিলে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। সরকার এখন তাই অটোমেটিক চাল কলগুলোকে সংগ্রহের প্রায় ৭০-৭৫ ভাগই হাতেগোনা গুটিকতক অটোমেটিক মিল থেকে সংগ্রহ করছে। আর অবশিষ্ট অংশ গোটা দেশের হাসকিং মিলগুলোর অনুকূলে প্রদান করা হচ্ছে। ফলে হাসকিং মিলগুলো সামান্য বরাদ্দের চাল পরিশোধে নিজেদের মিলে চাল উৎপাদন না করে অটোমেটিক মিল থেকে চাল কিনে এনে চুক্তিকৃত চাল সরকারি গুদামে জমা দিচ্ছে। যা খাদ্য বিভাগের বিনির্দেশ অনুযায়ীই হচ্ছে। কিন্তু তিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক এবং জনগণের পুষ্টি চাহিদা। গুটিকতক অটোমেটিক রাইস মিল নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে অনেকটা সিন্ডিকেটের মতো কম দামে ধান কিনে থাকে। আর আগে যখন হাসকিং মিলের চাল সংগ্রহ করা হতো, তখন সব হাসকিং মিল চালু থাকায় ধান কেনার জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা বাজারে থাকত। যার কারণে কৃষক ধানের ভালো দাম পেতো। এ ভাবেই ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তিগ্রস্ত হওয়ায় ধান চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে। আর যখন ধানের দাম বাড়ে তখন ধান চলেযায় মজুদ দারদের হাতে ।উল্টো চাষিরা এখন ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে পাট, , শাক-সবজি, ফলমূল ও ফুল চাষের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।হাসকিং রাইচ মিল বাচলে বাচবে এ ২৫ প্রায় হাজার মালিক ,বাচবে তাদের পরিবার ,বাচবে এ কাজের সাথে জড়িত শ্রমিক লাভবান হবে দেশের কৃষক ।
যশোর-৩ আসনে জুয়েলের মনোনপত্র জমা নেওয়ার নির্দেশ এনসিপি প্রার্থীর
যশোর অফিস : যশোর-৩ (সদর) আসনে এসসিপির প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি...
মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলায় সাদ্দাম আটক
যশোর অফিস : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি সাদ্দাম মন্ডলকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার রাতে...
মোংলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে কুপিয়ে যখম
মাসুদ রানা,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে লাইলী বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে কুপিয় মারাত্মক যখম করেছে শেখ রাজু মোল্লা নামে...
নওয়াপাড়ায় বিদ্যুতের তার চোরচক্র সক্রিয়, উদ্বেগে পৌরবাসী
মিঠুন দত্ত: অভয়নগর উপজেলার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার সাধারণ...
জামায়াত প্রার্থী সর্বাত্মক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানালেন
স্টাফ রিপোটার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ সড়কের...














