কলাগাছের শহীদ মিনারেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি লোহাগড়ায় শৈশবেই অধিকার বঞ্চিত শিশুরা

0
300

রাজিয়া সুলতানা,লোহাগড়া(পৌর)প্রতিনিধি : রঙিন কাগজে মোড়ানো কলাগাছ দিয়ে বানানো অস্থায়ী শহীদ মিনারেই ভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানালো শিশুরা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের ১৫০ নং পূর্বদিঘলিয়া আকড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনটি ঘটেছে। সূত্র জানায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৮৮ সালে। সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে। নতুন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০২ সালে। এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় একশ। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয় চত্বরে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি ইট-বালি-রড সিমেন্টের পাঁকা শহীদ মিনার। আর তাই শিশুদের মনে বেজায় কষ্ট! রঙিণ কাগজ ও কলাগাছ দিয়ে তৈরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছে কোমলমতি শিশুসহ স্থানীয়রা। প্রতিবছরই বুকজোড়া কষ্ট নিয়ে ভাষা দিবসে শহীদ বেদিতে হাজির হয় গ্রামের সহজ-সরল কোমলমতি শিশুরা। সরকারি সহযোগিতা যেমন মেলেনি, তেমনি মেলেনি কোন দানশীল বা দানবীর বা সমাজসেবকের কৃপা! শৈশবেই অধিকার বঞ্চিত জাতির ভবিষ্যৎ এ শিশুরা। ভাষা দিবসে মায়ের মুখের ভাষার চেতনায় নিজেদের উদ্বুদ্ধ করতে চাইলেও শিশুদের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কারন একটাই আর সবার মতন তারা একটি ভালমানের স্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না। ভাষা দিবস চলে গেলেই আস্তে আস্তে রোদে-বৃষ্টিতে পঁচে-শুকিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে কাগজ ও কলাগাছের তৈরী তাদের চেতনার শহীদ মিনারটি। বিদ্যালয়টি তখন হয়ে পড়ছে শহীদ মিনার শুন্য। তাই সারা বছরই হয়তো ভাষা দিবসের কথা তাদের মনে পড়ে না। যে কারনে ভাষা দিবস নিয়ে কমছে শিশুদের চেতনাবোধ! বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেয়েছে অনেক বছর আগে। অথচ এখনো শিশুরা ভালমানের একটি শহীদ মিনার বঞ্চিত। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার তিথি জানায়, প্রতি বছর ভাষা দিবসে আমাদের স্কুলে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানানো হয়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তাসবীর মোল্যা জানায়, প্রতিবছর কলা গাছের শহীদ মিনারে আমরা ফুল দেই। কলাগাছের শহীদ মিনার ভাল লাগেনা। স্থানীয় যুবক মোঃ লিংকন শেখ জানান, আমি প্রায় আট বছর যাবৎ দেখছি এ স্কুলে ভাষা দিবসে কলাগাছের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী আজিজুর রহমান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসকে মৌখিকভাবে শহীদ মিনার না থাকার বিষয়টি আগেই জানিয়েছি। এখনো কোন ফল পাইনি। স্কুলে শহীদ মিনার দরকার। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান খান বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণে জাতীয়ভাবে নকসা প্রণয়ন করবার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যে কারনে এখন শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে, স্থানীয়ভাবে করা যেত কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি। তবে, শহীদ মিনার হওয়াটা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here