নজরুল ইসলাম, মনিরামপুর প্রতিনিধি: ভিটে মাটি আর এক ছেলে গোবিন্দ ছাড়া এদেশের মাটিতে আর কিছুই নেই প্রতিবন্ধী রুপসী রানীর। মা-ছেলে দু’জনেরই কষ্টের শেষ নেই। নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে দৈনিক ১’শ ৯০ টাকা হাজিরায় যা হয় তাই দিয়ে মা-ছেলের জীবন চলে। এমন চরম কষ্টের কথা শুনে প্রতিবন্ধী রুপসী রানীর পাশে দাঁড়ালেন যশোরের সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান এস এম ইয়াকুব আলী। তিনি শুক্রবার বিকেলে তার বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়ে দেন।
প্রতিবন্ধী এই রুপসী রানী মণিরামপুরের জালালপুর গ্রামের উত্তম ঘোষের স্ত্রী। অভাবের সংসারে একটু শান্তি ফিরিয়ে আনার আশায় স্বামী উত্তম ধার-দেনা করে বছর দু’আগে চলে যায় মালয়েশিয়ায়। স্বামী উত্তম রেখে যান স্ত্রী রুপসী রানী ও একমাত্র ছেলে গোবিন্দ এবং বাস্তভিটা ১০শতক জমির উপর একটি বাড়ি। কিন্তু সেখানে কাজ কর্ম না থাকায় বাড়িতে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, সেও রয়েছেন সেখানে চরম কষ্টের মধ্যে। এরই মধ্যে গত বছরের ২০ মে আম্ফানে উড়িয়ে নিয়ে যায় রুপসী রানীর ছোট্ট সেই ঘরটুকু। কিন্তু আজও পর্যন্ত সেই ঘরের খুঁটি চাল কিছুই দিতে পারেননি। থাকেন প্রতিবেশী এক স্বজনের বাড়িতে। রুপসী রানী জানিয়েছেন, নওয়াপাড়া আকিজ মিলে দৈনিক ১৯০ টাকা হাজিরা পায় তা দিয়ে মা ছেলের দু’জনের পেট চলে। তারপরও ছেলে গোবিন্দ লেখা-পড়া করেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে। আম্ফানে ঘরটুকু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারি সাহায্যের দাবী নিয়ে কম ছুটাছুটি করেনি। কিন্তু নগদ টাকা ছাড়া কেউ ধরা দেয়নি আমার। খাদ্য কষ্ট আর সন্তানকে নিয়ে থাকার যে চরম কষ্ট তা কাউকে বোঝার নয়। সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী দূর থেকে খোঁজ নিয়ে সে আমার বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে তার জন্য আর্শিবাদ রইলো। সমাজের বিত্তবানরা যদি অসহায়দের খোঁজ না রাখে সেই অর্থবৃত্তির কোন মূল্য নেই। আর্শিবাদ করি ইয়াকুব আলীর জন্য।
সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান এস এম ইয়াকুব আলী জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে রুপসী ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছি। অসহায় এ নি:স্ব মা-ছেলের জন্য শুক্রবার খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে খুব শিঘ্রই রুপসী রানীর যদি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা না হয়, সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি নিজেই রুপসী রানী এবং ছেলে গোবিন্দর জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেবো।
Home
খুলনা বিভাগ আম্পানে ঘর হারা রুপসী রানীর এক বছরও খোঁজ নেয়নি জনপ্রতিনিধিরা, বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী...















